সামাজিক সুরক্ষায় ভারতের ঐতিহাসিক উত্থান, আন্তর্জাতিক পরিসরে দ্বিতীয় স্থান, কৃতিত্বের দাবি ঘিরে রাজনৈতিক তরজা

সামাজিক সুরক্ষা ক্ষেত্রে এক অভাবনীয় মাইলফলক স্পর্শ করেছে ভারত। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO)-এর সাম্প্রতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, এই গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ভারত বিশ্বজুড়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। বর্তমানে ১৪০ কোটির এই বিশাল জনসংখ্যার দেশে প্রায় ৯৪ কোটি মানুষ সামাজিক সুরক্ষা সুবিধার আওতায় এসেছেন, যা এক দশক আগেও ছিল কল্পনারও অতীত।

অবিশ্বাস্য বৃদ্ধি: এক দশকে ১৯% থেকে ৬৪.৩% কভারেজ
আইএলও-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৫ সালে ভারতের মোট জনসংখ্যার মাত্র ১৯ শতাংশ সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা পেতেন। কিন্তু ২০২৫ সালের মধ্যে এই সংখ্যা এক লাফে ৬৪.৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যা এক নজিরবিহীন বৃদ্ধি। দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষকে সুরক্ষা বলয়ের নিচে আনতে ভারত সরকারের এই প্রচেষ্টার ভূয়সী প্রশংসা করেছে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা। এটি নিঃসন্দেহে দেশের দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবনযাত্রায় এক ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

রাজনৈতিক তরজা: বাংলার সাফল্যের দাবি কুণাল ঘোষের
দেশের এই বিশাল সাফল্য যখন আন্তর্জাতিক মহলে প্রশংসিত হচ্ছে, তখন এর কৃতিত্ব কার, তা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিভিন্ন বিরোধী দল এই সাফল্যকে নিজেদের আন্দোলনের ফল হিসেবে তুলে ধরতে ব্যস্ত।

এই প্রসঙ্গে বাংলার শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যতম শীর্ষ নেতা কুণাল ঘোষ এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, “বাংলা পথ দেখিয়েছে বলেই ভারত আজ সামাজিক সুরক্ষা ক্ষেত্রে দ্বিতীয়স্থানে উঠে এসেছে।” তাঁর যুক্তি, বাংলার কন্যাশ্রী, যুবশ্রী ইত্যাদি প্রকল্পগুলি দেশের অন্যান্য রাজ্যের জন্য মডেল হিসেবে কাজ করেছে এবং সেগুলি অনুসরণ করেই বিভিন্ন রাজ্যে এই ধরনের প্রকল্প চালু হচ্ছে। কুণাল ঘোষের মতে, “ফলে এর জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কৃতিত্ব অনস্বীকার্য।”

জাতীয় সাফল্য, কিন্তু বিতর্ক অবিরাম
কুণাল ঘোষের এই মন্তব্য স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও কেন্দ্রের বিজেপি সরকার এবং অন্যান্য রাজ্যের শাসক দলগুলি ভারতের এই বিশাল সাফল্যের কৃতিত্ব নিজেদের দিকেই টানতে চাইবে। তবে, একথা অনস্বীকার্য যে, গত এক দশকে কেন্দ্র ও রাজ্য উভয়েরই বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্পের বিস্তার দেশের সামাজিক সুরক্ষা কভারেজ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বীকৃতি দেশের জন্য নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। দেশের প্রতিটি স্তরের নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করা যে কোনো সরকারেরই প্রাথমিক কর্তব্য। এই উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি প্রমাণ করে, এই ক্ষেত্রে ভারত সঠিক পথেই এগোচ্ছে, রাজনৈতিক চাপানউতোর সত্ত্বেও।