পহেলগামের হোটেলের ঘরে ঢুকে ৭০ বছরের বৃদ্ধাকে ধর্ষণ, অভিযোগ স্থানীয় যুবকের বিরুদ্ধে

সম্প্রতি জঙ্গি হামলার কারণে শিরোনামে থাকা জম্মু ও কাশ্মীরেরে জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র পহেলগাম আবারও সংবাদ শিরোনামে। এবার এক ভয়ঙ্কর জঙ্গি হামলার মাত্র ১১ দিন আগেই এখানকার এক হোটেলের কক্ষে মহারাষ্ট্রের ৭০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে মুখ বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় জুবের আহমেদ নামে পহেলগামেরই এক স্থানীয় যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে, এবং আদালত তার জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছিল ১১ই এপ্রিল। সেদিন বৃদ্ধা তাঁর হোটেলের ঘরে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। অভিযোগ, হঠাৎই জুবের তাঁর ঘরে ঢুকে পড়ে এবং প্রথমে তাঁর মুখ বেঁধে দেয়। এরপর তার ওপর চলে অকথ্য নির্যাতন। ঘটনার পর জুবের ঘরের জানালা দিয়ে পালিয়ে যায়।

পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় বৃদ্ধা গুরুতর আহত হয়েছিলেন এবং এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন যে নড়াচড়া করার ক্ষমতাও ছিল না। সেই অবস্থাতেই তিনি স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে জুবেরকে দ্রুত গ্রেফতার করা হয়। তার বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার উপযুক্ত ধারায় ধর্ষণ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের মামলা দায়ের করা হয়েছে।

জুবের আহমেদ পরবর্তীতে আদালতে জামিনের আবেদন করলে, গত ২৭শে জুন অনন্তনাগের দায়রা আদালতের বিচারক সেই আবেদন খারিজ করে দেন। অপরাধের ভয়াবহতা এবং এখনও পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া সম্ভব নয় বলে বিচারক স্পষ্ট জানিয়ে দেন।

বিচারকের পর্যবেক্ষণ ছিল অত্যন্ত কঠোর। তিনি বলেন, “এই ধরনের অপরাধ সমাজের নৈতিক মূল্যবোধ নষ্ট করে দেয়। সবুজ মাঠ, পর্বত আর নদী দিয়ে এই বেদনা ঢেকে রাখা যায় না। এমন ঘটনায় কাশ্মীরের, বিশেষ করে পহেলগামের মতো সুন্দর পর্যটনস্থলের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।”

পহেলগামের মতো একটি শান্ত ও মনোরম পর্যটন কেন্দ্রে এমন ঘৃণ্য অপরাধের ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দা এবং পর্যটকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একইসাথে, আদালতের কঠোর অবস্থান সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে। এই ঘটনা কাশ্মীরের নিরাপত্তা এবং পর্যটন শিল্প উভয়কেই নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে।