জম্মু-কাশ্মীর নিয়ে পাকিস্তানের নতুন উস্কানি, সেনাপ্রধানের মন্তব্যে উত্তাপ, ‘সন্ত্রাসবাদ’কে ‘স্বাধীনতার বৈধ লড়াই’ বললেন জেনারেল মুনির

পহেলগাঁও হামলার দগদগে স্মৃতি যখন এখনও টাটকা, নিরস্ত্র পর্যটকদের ওপর চালানো বর্বরতার ক্ষত শুকায়নি, ঠিক তখনই কাশ্মীর নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। তাঁর দাবি, জম্মু-কাশ্মীরে চলমান সন্ত্রাসবাদ আসলে সেখানকার মানুষের স্বাধীনতার পক্ষে একটি ‘বৈধ ও আইনত লড়াই’, এবং এই সংগ্রামে পাকিস্তানের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। এই মন্তব্য ভারতের সার্বভৌমত্বের উপর সরাসরি আঘাত এবং উপত্যকায় শান্তি প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

করাচির মঞ্চে কাশ্মীরের ‘আজাদি’ বনাম ভারতের ‘সন্ত্রাসবাদ’
শনিবার করাচিতে পাকিস্তান নৌবাহিনীর এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ফিল্ড মার্শাল মুনির একতরফাভাবে দাবি করেন, “ভারত যাকে সন্ত্রাসবাদের তকমা দিয়েছে, আসলে তা হল কাশ্মীরবাসীর স্বাধীনতার পক্ষে বৈধ এবং আইনত সংগ্রাম। এই সংগ্রামে আন্তর্জাতিক আইনেও সমর্থন রয়েছে।” তার এই মন্তব্য ভারতের কঠোর নিন্দা কুড়িয়েছে, যেখানে বারবার স্পষ্ট করা হয়েছে যে জম্মু-কাশ্মীরে সন্ত্রাসবাদকে কোনোভাবেই স্বাধীনতার সংগ্রাম বলে বৈধতা দেওয়া যায় না।

মুনির আরও বলেন, “কাশ্মীরের জনগণের ইচ্ছেকে দমন করার চেষ্টা করা হয়েছে। সমাধানের পরিবর্তে সংঘাত দূর করার চেষ্টা করা হয়েছে। সেই সবকিছু করে আন্দোলনকে আরও প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই লড়াইয়ে কাশ্মীরিরা একা নন, পাকিস্তান তাদের পাশে রয়েছে। পাক সেনাপ্রধানের কথায়, “জাতিসংঘের প্রস্তাব মেনে এবং কাশ্মীরিদের চাহিদা অনুযায়ী এই সমস্যার সমাধানের পক্ষে পাকিস্তান সর্বদা পাশে রয়েছে।”

ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ জম্মু-কাশ্মীর: ইসলামাবাদের একতরফা দাবি
নয়াদিল্লি বরাবরই দাবি করে এসেছে যে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছিন্ন অংশ ছিল, আছে এবং আগামীতেও থাকবে। তবে ইসলামাবাদ এই দাবি মানতে নারাজ। তাদের দাবি, কাশ্মীর হলো পাকিস্তানের ‘ঘাড়ের শিরা’। ২০১৯ সালের ৫ই অগস্ট জম্মু-কাশ্মীর থেকে সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করার পর থেকেই ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটতে থাকে, এবং উত্তেজনা আরও বাড়ে।

পুলওয়ামা ও পহেলগাঁও: মুনিরের চোখে ‘স্থিতিশীল’ পাকিস্তান
সন্ত্রাসবাদের মদত দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে মুনির পুলওয়ামা হামলা এবং সম্প্রতি পহেলগাঁও হামলা প্রসঙ্গে দাবি করেন, দুইবার ভারতীয় হামলার যোগ্য জবাব দিয়ে পাকিস্তান নিজেকে ‘স্থিতিশীলকারী’ হিসেবে প্রমাণ করে দিয়েছে। তাঁর কথায়, “প্রবল উস্কানি সত্ত্বেও পাকিস্তান ধৈর্য্য ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে পদক্ষেপ করেছে। শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপ করা হয়েছে।” তিনি আরও দাবি করেন, প্রতিপক্ষের হাজারও চেষ্টা সত্ত্বেও পাকিস্তান অগ্রগতি, উন্নয়ন এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে।

তবে, আন্তর্জাতিক মহল এবং ভারত বরাবরই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সীমান্ত পেরিয়ে সন্ত্রাসবাদের মদত দেওয়ার অভিযোগ তুলে আসছে। পহেলগাঁওয়ে নিরীহ পর্যটকদের উপর হামলা এবং তারপর পাক সেনাপ্রধানের এমন মন্তব্য, কাশ্মীর নিয়ে চলমান উত্তেজনাকে নতুন করে উস্কে দেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।