তেলেঙ্গানায় রাসায়নিক কারখানায় বিস্ফোরণ, ভয়াবহ আগুনে ঝলসে মৃত ৮

তেলেঙ্গানার সাংগারেড্ডি জেলার পাশামাইলারামে এক রাসায়নিক কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত আটজন শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় বহু শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন এবং মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সিগাচি কেমিক্যালস নামের একটি সংস্থার এই কারখানায় রুটিন অপারেশনের সময় আকস্মিক বিস্ফোরণটি ঘটে, যার জেরে গোটা চত্বরে মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই ছিল যে কর্মীরা বিন্দুমাত্র সতর্ক হওয়ার সুযোগ পাননি। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করে কারখানার বিস্তীর্ণ এলাকা। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকল বাহিনী এবং বিপর্যয় মোকাবিলা দল। যুদ্ধকালীন তত্পরতায় শুরু হয় উদ্ধারকাজ।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাস্থল থেকে ইতিমধ্যেই আটজন শ্রমিকের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও অনেকে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। নিখোঁজ কর্মীদের সন্ধানে তল্লাশি অভিযান জোর কদমে চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, গুরুতর আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। কারখানার চারপাশে পুলিশি ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছে এবং আগুন যাতে অন্যত্র ছড়িয়ে না পড়ে, সেদিকে সতর্ক নজর রাখছেন দমকলকর্মীরা।
ঘটনার পরপরই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। কীভাবে এই বিস্ফোরণ ঘটল, সুরক্ষা বিধি লঙ্ঘিত হয়েছিল কিনা, বা কোনো গাফিলতি ছিল কিনা – সবকিছু পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো স্পষ্ট নয়।
এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী রেভন্ত রেড্ডি। তিনি অবিলম্বে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে উদ্ধারকাজে গতি আনার নির্দেশ দিয়েছেন। একইসাথে, আহতদের দ্রুত এবং যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “কারখানায় যদি কেউ আটকে থাকেন, তাঁদের দ্রুত উদ্ধার করতে হবে। দগ্ধ ও আহতদের জরুরি ভিত্তিতে উন্নত চিকিৎসা দিতে হবে।”
এই মুহূর্তে কারখানার ভেতরে ও বাইরে জোর তল্লাশি এবং ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চলছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, দ্রুত আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা হবে এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্তের রিপোর্ট শীঘ্রই প্রকাশ করা হবে। এই দুর্ঘটনা রাজ্যের শিল্প সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।