কসবা কাণ্ড, নির্যাতিতার মেডিক্যাল রিপোর্টে লোমহর্ষক তথ্য, প্রকাশ পেল পরিকল্পিত ধর্ষণের ছক

কসবা আইন কলেজের ছাত্রীর উপর বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনায় মেডিক্যাল রিপোর্ট আরও ভয়ঙ্কর তথ্য সামনে এনেছে। নির্যাতিতার শরীরে নানা জায়গায় আঘাতের পাশাপাশি যৌনাঙ্গেও মিলেছে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন, যা পাশবিকতার চূড়ান্ত নিদর্শন। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রের দুই সাগরেদের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি, যেখানে উঠে এসেছে সম্পূর্ণ পরিকল্পিত ধর্ষণের ছক।
মেডিক্যাল রিপোর্টে ভয়াবহতার চিত্র
কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের ফরেন্সিক মেডিসিন ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞরা নির্যাতিতার মেডিক্যাল টেস্ট সম্পন্ন করেছেন। সূত্রের খবর, প্রথম ও দ্বিতীয়, উভয় মেডিক্যাল টেস্টের রিপোর্টই শিউরে ওঠার মতো তথ্য প্রকাশ করেছে। নির্যাতিতার যৌনাঙ্গের ভিতর আঘাতের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। শুধু তাই নয়, তার বুক এবং ঘাড়ে কামড়ের দাগ এবং অন্যান্য ক্ষত চিহ্নও স্পষ্ট।
শরীরের বিভিন্ন অংশের বায়োকেমিক্যাল টেস্টের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নির্যাতিতার নখ ও মাথার বিভিন্ন জায়গার পরীক্ষা চলছে, যা থেকে আরও গুরুত্বপূর্ণ ফরেন্সিক প্রমাণ মেলার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনার স্থল থেকে বাজেয়াপ্ত করা হকিস্টিক, পোশাক-সহ একাধিক জিনিসও পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে, যা অপরাধের ভয়াবহতা প্রমাণে সহায়ক হবে।
পরিকল্পিত ধর্ষণ: দুই সাগরেদের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি
এই ঘটনার তদন্তে নতুন মোড় এনেছে মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রের দুই সাগরেদ প্রমিত ও জায়েব-এর পুলিশি জেরায় দেওয়া বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি। তারা দুজনেই জানিয়েছে যে, মনোজিৎ সম্পূর্ণ পরিকল্পনা করেই ওই তরুণীকে ধর্ষণ করেছিল। সবকিছুই আগে থেকে নিখুঁতভাবে সাজানো ছিল।
দুই সাগরেদের বয়ান অনুযায়ী, মনোজিৎ যেকোনো উপায়ে তরুণীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চেয়েছিল। আর সেই কারণেই গত দুই দিন ধরে তারা নিবিড় পরিকল্পনা করেছিল। প্রাথমিকভাবে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে তরুণীকে রাজি করানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়াতেই জোরজবরদস্তি করে এই জঘন্য কাজ করা হয়।
মনোজিতের পূর্ববর্তী অপরাধের ইতিহাস
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্রের বিরুদ্ধে এর আগেও একাধিক অভিযোগ উঠেছিল এবং এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে, প্রতিটি ক্ষেত্রেই সে বারবার পার পেয়ে গেছে। এই তথ্য তার বেপরোয়া মনোভাব এবং কেন সে এমন অপকর্ম বারবার করতে সাহস পেত, সেই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত: দিনভর আটকে রেখে নির্যাতন
কসবা আইন কলেজে বুধবার দিনভর এই তরুণীকে আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। রাত ১০টারও পরে নির্যাতিতা তরুণী ছাড়া পায়। এই ঘটনা রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলির নিরাপত্তা এবং সেখানে ছাত্র-ছাত্রীদের সুরক্ষাকে ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র ছাড়াও তার দুই সাগরেদ প্রমিত ও জায়েব এবং কলেজের নাইট গার্ড এই তালিকায় রয়েছেন। পুলিশ আরও ১৭ জনের উপর নজর রাখছে বলে জানা গেছে, যাদের এই ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এই জঘন্য অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে সমাজের সব মহল।