অনির্বাণ ভট্টাচার্যের নতুন সংগ্রাম, টেকনিশিয়ানদের অসহযোগিতা ও কাজের অভাব; বাংলা ছাড়তে নারাজ ‘হুলিগ্যানিজম’-এর স্রষ্টা

অভিনেতা এবং পরিচালক অনির্বাণ ভট্টাচার্য ফের এক নতুন সঙ্কটের মুখে। তার জনপ্রিয় ‘হুলিগ্যানিজম’ গানের দ্বিতীয় ভাগের শুটিং টেকনিশিয়ানদের অসহযোগিতার কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি তাঁর হতাশা ও দৃঢ়তার কথা তুলে ধরেন। কাজের অভাব এবং ইন্ডাস্ট্রির নীরবতা, সব মিলিয়ে এক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন অনির্বাণ, তবুও বাংলা ছেড়ে বাইরে যেতে নারাজ এই গুণী শিল্পী।
অসহযোগিতার আখ্যান: ‘ফোন ধরেননি কোনো কলাকুশলী’
সাংবাদিক সম্মেলনে অনির্বাণ ভট্টাচার্য স্পষ্ট ভাষায় জানান, “শুটিংয়ের আগের দিন রাত থেকে ফোন ধরেননি কোনও কলাকুশলী।” এই অসহযোগিতার কারণ তার অজানা। তিনি বলেন, “এর আসল কারণ আমার জানা নেই, তবে আমি লড়াই চালিয়ে যাব।” তার এই মন্তব্য ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে এক চাপা অসন্তোষের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে টেকনিশিয়ানদের দিক থেকে এমন সম্মিলিত অসহযোগিতার কারণ কী, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
কাজের অভাবের সুর: ‘ঘটি-বাটি-চটি সব হারাতে পারি’
ফিল্ম সমালোচকদের মতে, অনির্বাণ ভট্টাচার্য অভিনেতা এবং পরিচালক উভয় দিক থেকেই সফল। ‘রঘু ডাকাত’-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রোজেক্টের কাজ শেষ করার পরও তার হাতে বর্তমানে কোনো কাজ নেই, যা বিস্ময়কর। অনির্বাণ নিজেই এই সত্যটা স্বীকার করে বলেছেন, “রঘু ডাকাতের শুটিং সেরেছি, তবে বেশ কিছুদিন আর কোনও কাজের প্রস্তাব আসেনি।” তাঁর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “পরবর্তী তিন থেকে ছ’মাস যদি এমনভাবেই চলে, তাহলে আমায় বুঝতে হবে আমার ঘটি-বাটি-চটি সব হারিয়ে অভিনয়টাও বন্ধ হল।”
তার এই বক্তব্য ইন্ডাস্ট্রির ভেতরের কঠিন বাস্তবতাকে তুলে ধরছে, যেখানে একজন প্রতিষ্ঠিত শিল্পীও কাজের অভাবে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
‘বাংলা আমাকে জনপ্রিয় করেছে, কেন যাব অন্য শহরে?’
কাজের অভাব সত্ত্বেও অনির্বাণ ভট্টাচার্য বাংলা ছেড়ে অন্য শহরে যাওয়ার কথা ভাবছেন না। তার কথায়, “আমি আমার বাংলাকে ছেড়ে কোথাও যাব না কাজের আশায়। এই বাংলা আমাকে জনপ্রিয় করেছে, এই বাংলার মানুষ আমাকে ভালোবেসেছে। কেন যাব অন্য শহরে? এখানেই লড়াই করে আমি আমার জায়গা ফিরিয়ে আনব।” অনির্বাণের এই দৃঢ়চেতা মনোভাব তার মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসারই প্রতিফলন। তিনি মঞ্চকে তার লড়াইয়ের ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন, যা তার থিয়েটারের প্রতি দায়বদ্ধতাকেও প্রমাণ করে।
যখন তাকে প্রশ্ন করা হয় যে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় ও দেব-সহ অন্যান্য তারকারা এই কঠিন সময়ে তার পাশে আছেন কিনা, অনির্বাণ স্পষ্ট জানান, “না, এই ব্যাপারে আমার সঙ্গে ওঁদের কোনও কথা হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “আমি কাউকে পাশে চাইনি। আমার লড়াই আমিই চালিয়ে যাব। আমার কাছে মঞ্চও আছে।”
অনির্বাণ ভট্টাচার্যের এই নতুন সংগ্রাম বাংলা চলচ্চিত্র জগতের এক অস্থির চিত্র তুলে ধরেছে। এক সফল শিল্পী যখন কাজের অভাবে এমন অনিশ্চয়তায় ভোগেন এবং টেকনিশিয়ানদের অসহযোগিতার মুখে পড়েন, তখন তা সামগ্রিকভাবে ইন্ডাস্ট্রির ভবিষ্যৎ নিয়েই প্রশ্ন তোলে। তবে, অনির্বাণের লড়াইয়ের অঙ্গীকার হয়তো নতুন কোনো দিশা দেখাতে পারে।