প্রকাশ্য রাস্তায় প্রবীণ নেতাকে জুতোপেটা! তৃণমূল নেত্রীর বর্বরতায় লজ্জায় পশ্চিম মেদিনীপুর

তৃণমূলের আরও এক নেত্রীর বেপরোয়া কাণ্ড; দলের মুখ পুড়ল, শোকজ বেবি কোলে
খড়গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর: পানিহাটি পুরসভার এক তৃণমূল পুরমাতার প্রকাশ্য দিবালোকে চুলোচুলির ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার খড়গপুর থেকে উঠে এল আরও ভয়াবহ এক চিত্র। জেলার স্থানীয় তৃণমূল নেত্রী বেবি কোলে’র বিরুদ্ধে প্রকাশ্য রাস্তায় এক প্রবীণ বিরোধী দলের নেতাকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে। কিল, চড়, ঘুষি এমনকি জুতোপেটা করার সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হতেই রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গেছে। এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব, তড়িঘড়ি অভিযুক্তাকে শোকজ করা হয়েছে দলের তরফে।
প্রকাশ্য সড়কে বর্বরতা: নীরব দর্শক জনতা
ঘটনাটি ঘটেছে আজ সকালে খড়গপুরের এক ব্যস্ত রাস্তার ওপর। অভিযোগ, স্থানীয় সিপিএমের প্রাক্তন প্রবীণ নেতা অনিল দাস, যিনি এলাকায় ‘ভীম দা’ নামে পরিচিত, তাকে বেধড়ক মারধর করেন তৃণমূল নেত্রী বেবি কোলে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, তৃণমূলের ওই নেত্রী প্রকাশ্য রাস্তায় প্রাক্তন সিপিএম নেতাকে ফেলে কিল, চড়, ঘুষি মারছেন এবং জুতোপেটাও করছেন। এখানেই শেষ নয়, বৃদ্ধ প্রাণ বাঁচাতে একটি রংয়ের দোকানে আশ্রয় নিলে, বেবি কোলে সেখানে ঢুকে তার গায়ে রং ঢেলে দেন বলেও অভিযোগ।
আশ্চর্যজনকভাবে, ঘটনার সময়ে রাস্তায় বহু মানুষ উপস্থিত থাকলেও, কেউই ওই বৃদ্ধকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেননি। বরং সকলে মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করতেই ব্যস্ত ছিলেন, যা সমাজের সংবেদনশীলতা নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
কেন এই হামলা? টাকা না মুখ্যমন্ত্রীর নাম?
পুলিশ সূত্রে খবর, আক্রান্ত বৃদ্ধের নাম অনিল দাস, যিনি বর্তমানে ‘আমরা বামপন্থী, খড়গপুর’ নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। কিন্তু কেন এই প্রবীণ বাম নেতাকে মারধর করা হলো? এই প্রশ্ন করা হলে অভিযুক্ত তৃণমূল নেত্রী বেবি কোলে এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেন।
বেবি কোলের ভাষ্যমতে, কয়েকজন মহিলা ভীম দাকে ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিল। সেই টাকা ফেরত চাইতে গেলে উল্টে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে অশ্লীল মন্তব্য করেন। এমনকি ওই মহিলাদের ধরে টানাটানি করে মুখ্যমন্ত্রীকে ‘দিঘা ধামে নিয়ে যাওয়ার’ মতো কু-ইঙ্গিত দেন। বেবি কোলের দাবি, এসব শুনেই তার রাগ সপ্তমে ওঠে এবং কাণ্ডজ্ঞান হারিয়ে রাস্তাতেই তিনি এই ‘অনাচারের’ প্রতিশোধ নিয়েছেন।
অন্যদিকে, আহত বাম নেতা অনিল দাসের দাবি সম্পূর্ণ ভিন্ন। তার অভিযোগ, কয়েকদিন আগে খরিদা এলাকায় তার বাড়ির পাশের এক মহিলার (দুর্গা সাহু) বাড়ির দেওয়াল ভেঙে এবং শৌচাগার বন্ধ করে অত্যাচার চালাচ্ছিলেন বেবি কোলে। এর প্রতিবাদ জানাতেই অনিল দাস ওই মহিলাকে সঙ্গে নিয়ে খড়গপুর টাউন থানায় বেবি কোলের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অনিল দাসের অভিযোগ, সেই ঘটনার প্রতিশোধ নিতেই বেবি কোলে আজ তার ওপর চড়াও হন।
তৃণমূলের অস্বস্তি, শাস্তির দাবি
এই ঘটনায় স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন। প্রকাশ্য রাস্তায় দলের একজন নেত্রীর এমন বর্বর আচরণ দলের ভাবমূর্তিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। খড়গপুরের তৃণমূল নেতা প্রদীপ দাস এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন এবং অভিযুক্ত বেবি কোলের উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ইতিমধ্যে, মার খেয়ে আহত বাম নেতা অনিল দাস ঘটনার পরে খড়গপুর টাউন থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। পানিহাটির পর খড়গপুরের এই ঘটনা আবারও তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা এবং স্থানীয় নেতৃত্বের বেপরোয়া আচরণের উপর প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিল। দলের তরফে শোকজের পর বেবি কোলের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।