ডিএ বিতর্কে নতুন অধ্যায়, রাজ্য সুপ্রিম কোর্টে, কর্মীরা আরটিআই-এর পথে

পশ্চিমবঙ্গের সরকারি কর্মীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (ডিএ) নিয়ে রাজ্য সরকার এবং কর্মচারী সংগঠনগুলির মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছেছে। সুপ্রিম কোর্টে ২৫ শতাংশ বকেয়া ডিএ ইস্যুটি বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও, রাজ্য সরকার আপাতত ডিএ প্রদানে অপারগতা জানিয়েছে। এর পাল্টা হিসাবে, সরকারি কর্মীদের একাংশ এবার তথ্য জানার অধিকার আইন (RTI)-এর সাহায্য নিচ্ছেন রাজ্যের আর্থিক স্বচ্ছতা যাচাই করতে। এই ঘটনা ডিএ বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
রাজ্যের যুক্তি: আর্থিক সংকট, পাহাড়প্রমাণ বোঝা
রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছে, বর্তমানে রাজ্যের ঘাড়ে বিশাল আর্থিক বোঝা রয়েছে এবং আর্থিক সংকট এতটাই তীব্র যে, এই মুহূর্তে ডিএ প্রদান করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। রাজ্যের এই যুক্তিকে সামনে রেখেই তারা শীর্ষ আদালতের কাছে কিছুটা সময় চেয়েছেন।
তবে, রাজ্য সরকারের এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন সরকারি কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, সরকার বারবার আর্থিক সংকটের অজুহাত দেখালেও, ডিএ প্রদানে প্রকৃত ব্যয়ভার এবং এর পেছনের স্বচ্ছতা নিয়ে বহু প্রশ্ন অমীমাংসিতই থেকে যাচ্ছে।
কর্মীদের পাল্টা চাল: আরটিআই-এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের উদ্যোগ
এই পরিস্থিতিতে, রাজ্যের সরকারি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের সংগঠন ইউনিটি ফোরাম এক নতুন কৌশল অবলম্বন করেছে। গত ২৬শে জুন, এই সংগঠনের সদস্যরা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরে একটি RTI আবেদন দাখিল করেছেন। তাঁদের মূল লক্ষ্য হলো, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হওয়া ডিএ সংক্রান্ত রাজ্য সরকারের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করা। কর্মীদের একাংশ মনে করছেন, এই তথ্য হাতে এলে মহার্ঘ ভাতা নিয়ে রাজ্য সরকারের আর্থিক দায়বদ্ধতা ও স্বচ্ছতা জনসমক্ষে আসবে।
আরটিআই আবেদনে কী জানতে চাওয়া হয়েছে?
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক পলাশ দত্ত তাঁর RTI আবেদনে মূলত পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলে ধরেছেন:
প্রাপকদের শ্রেণিবিন্যাস: সরকারি বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, কোন কোন শ্রেণীর (যেমন: সরকারি কর্মী, শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত) মোট কতজন প্রাপক এই মহার্ঘ ভাতার আওতায় রয়েছেন? প্রতিটি বিভাগের সরকারি কর্মীদের সংখ্যাও আলাদা করে জানতে চাওয়া হয়েছে।
মোট প্রাপকের সংখ্যা: সব বিভাগ মিলিয়ে এই মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির ফলে মোট কতজন কর্মী ও অবসরপ্রাপ্ত উপকৃত হচ্ছেন?
বিভাগভিত্তিক খরচ: প্রতিটি বিভাগের জন্য মহার্ঘ ভাতা দিতে সরকারের ঠিক কত টাকা খরচ হচ্ছে? টাকার মোট অঙ্ক জানতে চাওয়া হয়েছে।
বার্ষিক মোট খরচ: ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ডিএ বাবদ রাজ্য সরকারের মোট কত টাকা খরচ হবে, তার একটি আনুমানিক অঙ্কও জানতে চাওয়া হয়েছে।
ডিএ নির্ধারণের ভিত্তি: ঠিক কীসের ভিত্তিতে বা কোন মাপকাঠির ওপর ভিত্তি করে রাজ্য সরকার ডিএ-র হার নির্ধারণ করেছে?
ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে কর্মীমহল
সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি, RTI-এর মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহের এই পদক্ষেপ রাজ্য সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়াবে বলে মনে করা হচ্ছে। কর্মীরা আশা করছেন, এই তথ্যগুলি ডিএ মামলার শুনানিতে তাদের পক্ষকে আরও শক্তিশালী করতে সাহায্য করবে। এখন দেখার বিষয়, রাজ্য সরকার এই RTI আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে কী তথ্য প্রকাশ করে এবং তা বকেয়া ডিএ ইস্যুর সমাধানে কোনো ইতিবাচক ভূমিকা নেয় কিনা। রাজ্যের সরকারি কর্মীরা এখন অধীর আগ্রহে এই তথ্যের দিকে তাকিয়ে আছেন।