কলকাতা লিগে স্বপ্নভঙ্গ মোহনবাগানের, পুলিশ এসি-র কাছে হেরে শুরুতেই ধাক্কা!

কলকাতা ফুটবল লিগের নতুন মরশুমের শুরুটা হলো এক দুঃস্বপ্ন দিয়ে। সুপার সিক্সে গতবারের ব্যর্থতার পর এবার ঘরোয়া লিগে ঘুরে দাঁড়ানোর শপথ নিয়ে মাঠে নেমেছিল মোহনবাগান, কিন্তু প্রথম ম্যাচেই অপ্রত্যাশিতভাবে হোঁচট খেল তারা। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী নয়, বরং গত মরশুমের ভিলেন পুলিশ এসি-র কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে কলকাতা লিগ অভিযান শুরু করল সবুজ-মেরুন ব্রিগেড। এই হার শুধু পয়েন্ট হারানো নয়, ডেগি কার্ডোজোর দলের বোঝাপড়া নিয়েও প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
প্রতিশোধের আগুনে পুড়ে ছাই বাগান
গতবার পুলিশ এসি-র কাছে ৩-২ গোলে হেরেছিল মোহনবাগান। তাই এই ম্যাচটি ছিল গতবারের হারের প্রতিশোধ নেওয়ার এক মোক্ষম সুযোগ। সমর্থকরা আশা করেছিলেন, শক্তিশালী স্কোয়াড নিয়ে মোহনবাগান দাপটের সঙ্গে শুরু করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, সেই সুযোগ হাতছাড়া করেছে তারা। জয় তো দূরে থাক, একটি গোলও তুলতে পারেনি তারা।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য মোহনবাগানের পক্ষেই ছিল। মাত্র ২ মিনিটের মাথায় সালাউদ্দিনের একটি ক্রস আটকে দেন পুলিশ এসি-র গোলরক্ষক সুরজ আলি, যিনি আজ দিনভর মোহনবাগান ফরোয়ার্ডদের সামনে দুর্ভেদ্য প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। ৭ মিনিটে সালাউদ্দিনের ফ্রি-কিকও ফের একবার দক্ষতার সঙ্গে সেভ করেন সুরজ। মোহনবাগান আক্রমণ শানাতে চাইলেও, পুলিশ এসি নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পাসে বল ধরে রাখছিল এবং ধীরে ধীরে সবুজ-মেরুন বক্সে উঠে আসার চেষ্টা করছিল।
অপ্রত্যাশিত গোল ও হতাশার প্রথমার্ধ
ম্যাচের ১৮ মিনিটে পুলিশের দূরপাল্লার শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলেও, তারা খেলা ধরতে শুরু করেছিল। ২০ মিনিটে মোহনবাগান আবারও একটি ফ্রি-কিক পায়, কিন্তু দ্বিতীয় সুযোগেও পুলিশ গোলরক্ষক সুরজ তা দারুণভাবে সেভ করেন। খেলার ২৪ মিনিটে সালাউদ্দিনের বাঁ-পায়ের দূরপাল্লার শট গোলের বাইরে দিয়ে চলে যায়। ম্যাচের ২৯ মিনিটে সবুজ-মেরুন ব্রিগেডের ডিফেন্সে বিপদ বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, পুলিশ ডিফেন্সের সজাগ দৃষ্টির কারণে তা এড়ানো যায়। ৩০ মিনিটে পুলিশের দূরপাল্লার শটে কোনো ফল হয়নি। ৩৮ মিনিটে মোহনবাগান আবারও একটি সুযোগ পায়, কিন্তু সেটিও গোলপোস্টে যায়নি।
তবে ম্যাচের নাটকীয় মুহূর্ত আসে প্রথমার্ধের একেবারে শেষ লগ্নে। খেলার গতির বিরুদ্ধে গিয়ে ৪৬ মিনিটে ফ্রি-কিক আদায় করে নেয় পুলিশ এসি। আর সেই সেট-পিস থেকেই মোহনবাগানের জালে বল জড়িয়ে দেন পুলিশের মহম্মদ আমিল নঈম। ১-০ ফলাফলে শেষ হয় প্রথমার্ধ, যা মোহনবাগান সমর্থকদের জন্য ছিল চরম হতাশার।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই ছবি: বোঝাপড়ার অভাব স্পষ্ট
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই (৪৮ মিনিট) সমতায় ফেরার এক সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে মোহনবাগান। পাসাং দর্জি তামাং একেবারে ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে ব্যর্থ হন, যা ছিল ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট। ম্যাচের ৫৬ মিনিটে পুলিশ আবারও আক্রমণ শুরু করে, কিন্তু ফয়জল গোল করতে ব্যর্থ হন। খেলার ৭১ মিনিটে মোহনবাগান গোলরক্ষক দলের নিশ্চিত পতন রোধ করেন, যা ছিল প্রশংসনীয়।
তবে এরপরও মোহনবাগান বেশ কয়েকবার পুলিশের রক্ষণভাগে আক্রমণ চালালেও, কোনোভাবেই সমতায় ফিরতে পারেনি। শেষ পর্যন্ত ১-০ গোলের পরাজয় নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় সবুজ-মেরুন ব্রিগেডকে।
এই ম্যাচ দেখে একটি বিষয় অত্যন্ত স্পষ্ট যে, মোহনবাগান ফুটবলারদের মধ্যে এখনও সেইভাবে কোনো বোঝাপড়াই গড়ে ওঠেনি। আক্রমণের মুহূর্তে ছন্নছাড়া মনোভাব এবং রক্ষণে কিছু সমন্বয়হীনতা চোখে পড়েছে। কলকাতা লিগ জেতার স্বপ্ন নিয়ে যে মোহনবাগান এই মরশুম শুরু করেছিল, তাদের প্রথম ম্যাচেই এমন অপ্রত্যাশিত হারে সমর্থকরা স্বভাবতই হতাশ। দলের কোচ ডেগি কার্ডোজোর ওপর চাপ আরও বাড়ল। দ্রুত এই দুর্বলতাগুলো কাটিয়ে উঠতে না পারলে, গতবারের মতোই সুপার সিক্সে ওঠার লড়াই তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে।
এই প্রথম ধাক্কা কি মোহনবাগানকে বাকি লিগে আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে, নাকি গতবারের মতোই লিগের শুরুতেই তাদের স্বপ্নভঙ্গ হবে? সময়ই দেবে এর উত্তর।