কসবা ল কলেজের অন্ধকার দিক, “মিষ্টি মুখের শয়তান” মনোজিৎ মিশ্রের অপশাসন

কসবা ল কলেজে এক ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছিল মনোজিৎ মিশ্রের কারণে, যেখানে জুনিয়র মেয়েদের কাছে সে ছিল এক আতঙ্কের নাম। বাইরে সে নিজেকে “ভাই-বোন” বলে সম্বোধন করলেও, আড়ালে তার আসল রূপ ছিল এক শয়তানের মতো। কলেজের অভ্যন্তরে তার ক্ষমতা এতটাই ছিল যে, শিক্ষার্থীরা ভয়ে মুখ খুলতেও সাহস পেত না।

পিকনিকের নামে পাশবিকতা:
মনোজিৎ মিশ্রের অন্ধকার দিকটা আরও প্রকট হয় তার ইউনিয়নের আয়োজিত এক পিকনিকে। সিনিয়ররা জুনিয়রদের সতর্ক করলেও, এক সরল ছাত্রী অজান্তেই তার শিকার হয়। মদ্যপ মনোজিৎ সেই ছাত্রীকে সরাসরি বিয়ের প্রস্তাব দেয় এবং আপত্তিকরভাবে তাকে স্পর্শ করে। মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে সিনিয়রদের কাছে অভিযোগ জানালে, মনোজিৎ দম্ভ করে বলে, “দেখবি, মেয়েটি আমার দলেই চলে আসবে!” এই ঘটনা কলেজের ভিতরে তার প্রভাব কতটা ছিল, তা স্পষ্ট করে দেয়।

ক্ষমতার অপব্যবহার ও নিরবচ্ছিন্ন ভয়:
মনোজিৎ শুধু একজন নয়, বহু জুনিয়র ছাত্রীকে এরকম আপত্তিকর প্রস্তাব দিয়েছে। কলেজে মারামারি, ঝগড়াঝাঁটি লেগেই থাকত তার কারণে। বিভিন্ন পদ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সে জুনিয়র মেয়েদের টোপ দিত। অনেকে তার পাতা ফাঁদে পা দিত, আবার কেউ কেউ ভয়ে কলেজ আসা বন্ধ করে দিত। দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ভাগ্মী ত্রিবেদী নিউজ 18 বাংলাকে জানান, মনোজিৎ কলেজে নিজের পেশি বলে স্বঘোষিত নেতা হয়ে বসেছিল। সে কলেজের নিরাপত্তা থেকে শুরু করে পঠন-পাঠন পর্যন্ত সবকিছুর “সুন্দর ব্যবস্থা” করে দেবে বলে আশ্বাস দিত, কিন্তু বাস্তবে তার উল্টোটাই ঘটত। তার ভালো মুখের আড়ালে লুকিয়ে ছিল অসংখ্য জুনিয়রের অন্ধকার ভবিষ্যৎ।

কর্তৃপক্ষের নীরবতা: এক রহস্য:
সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হলো, কলেজ কর্তৃপক্ষ মনোজিতের এই সমস্ত কার্যকলাপ সম্পর্কে অবগত থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। যেন কোনো এক অজানা মন্ত্রবলে তাকে থামানো যেত না। এই নীরবতা শুধু কলেজ কর্তৃপক্ষের গাফিলতি নয়, বরং তা কসবা ল কলেজের ভেতরের এক গভীর অসুস্থতাকে নির্দেশ করে। এই ঘটনা প্রমাণ করে, শিক্ষার মন্দির যখন অনিরাপদ হয়ে ওঠে, তখন ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বপ্নগুলোও অন্ধকারে তলিয়ে যায়।