আরজি কর কাণ্ড, ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ নির্যাতিতার পরিবার

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে ঘটে যাওয়া চাঞ্চল্যকর ধর্ষণ ও খুনের ঘটনায় এবার ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুমতি চেয়ে শিয়ালদহ আদালতে আবেদন জানাল নির্যাতিতা তরুণী চিকিৎসক পড়ুয়ার পরিবার। গত অগাস্টে হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে ঘটে যাওয়া এই নারকীয় ঘটনার পর থেকেই সুবিচারের দাবিতে সরব পরিবার।
হাইকোর্টের নির্দেশ, নিম্ন আদালতের দ্বারস্থ পরিবার
জানা গেছে, নির্যাতিতার বাবা-মা এর আগে আরজি কর হাসপাতালের ঘটনাস্থল দেখার অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। গত বৃহস্পতিবার বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে নির্দেশ দেন যে, এ বিষয়ে নিম্ন আদালতে আবেদন জানাতে হবে। হাইকোর্ট শিয়ালদহ আদালতকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। একইসঙ্গে, অনুমতি দেওয়া হলে ঘটনাস্থলে কতজন উপস্থিত থাকতে পারবেন, তাও আদালতকেই জানাতে বলা হয়।
হাইকোর্টের এই নির্দেশ মেনেই আজ, সোমবার, নির্যাতিতার বাবা-মা তাঁদের আইনজীবীসহ শিয়ালদহ আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালতের কাছে তাঁরা আবেদন করেন, তাঁদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হোক। নির্যাতিতার পরিবারের আইনজীবী ফিরোজ এডুলজি জানান, যেহেতু আরজি কর হাসপাতালের পাহারার দায়িত্বে কেন্দ্রীয় বাহিনী রয়েছে, তাই তাঁরা আদালতের কাছে ঘটনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি চাইছেন। তাঁদের দাবি, মেয়ের উপর যে নির্যাতন হয়েছে, সেই প্রেক্ষাপটে একবার ঘটনাস্থলটি সরেজমিনে দেখতে চান তাঁরা।
আদালত এই আবেদন গ্রহণ করেছে। আগামী সোমবার এই আবেদনের ওপর শিয়ালদহ আদালতে শুনানি হবে বলে জানা গেছে।
কী ঘটেছিল আরজি করে?
গত অগাস্ট মাসে আরজি কর হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিল্ডিংয়ে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুন করা হয়। এই ঘটনায় কলকাতা পুলিশের সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়কে গ্রেফতার করা হয়েছিল। নিম্ন আদালত তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে।
যদিও আদালতের রায় এসেছে, কিন্তু নির্যাতিতার পরিবার চায় এই ঘটনার প্রতিটি দিক স্পষ্ট হোক। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের মাধ্যমে হয়তো আরও কোনো নতুন তথ্য উঠে আসতে পারে, যা ভবিষ্যতে এমন ঘটনা প্রতিরোধে সাহায্য করবে – এমনই আশা করছে পরিবার ও তাদের আইনি দল।
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমানে, শিয়ালদহ আদালত কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল।