কসবা কলেজ বিতর্কে নতুন মোড়, মমতা, মদন, কল্যাণকে একযোগে তোপ দাগলেন অগ্নিমিত্রা পাল

কসবার আইন কলেজের সাম্প্রতিক নারকীয় ঘটনা নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এই ঘটনায় শাসকদলের দুই হেভিওয়েট নেতা মদন মিত্র ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের “বিরূপ মন্তব্য” আগুনে ঘি ঢেলেছে। এবার সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মদন মিত্র এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে একযোগে আক্রমণ শানালেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তাঁর এই আক্রমণ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল ফেলে দিয়েছে।
“ধিক্কার জানাই”: কেন এমন আক্রমণ অগ্নিমিত্রার?
কসবার আইন কলেজে এক ছাত্রীর উপর ঘটে যাওয়া পাশবিক ঘটনা এবং এরপর কলেজ কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে যখন সাধারণ মানুষ ও ছাত্রসমাজ ক্ষোভে ফুঁসছে, তখনই মদন মিত্র এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের কিছু মন্তব্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। কী ছিল তাঁদের সেই মন্তব্য, যা নিয়ে এত বিতর্ক? (এখানে আপনি চাইলে মদন মিত্র ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দিষ্ট বিতর্কিত মন্তব্যগুলি যোগ করতে পারেন, যদি আপনার কাছে তথ্য থাকে। যেমন, “মদন মিত্র মন্তব্য করেছিলেন, ‘ছেলেরা তো একটু দুষ্টুমি করবেই…’ বা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছিলেন, ‘এসব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে এত বাড়াবাড়ি কেন?’ এই ধরনের তথ্য যুক্ত করা গেলে খবরটি আরও শক্তিশালী হবে।)
এই প্রেক্ষাপটেই আসরে নামেন বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “ল’ কলেজের এই জঘন্য ঘটনায় মদন মিত্র এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্য অত্যন্ত হতাশাজনক এবং অসংবেদনশীল। একজন ছাত্রীর সম্মান যেখানে ভূলুণ্ঠিত, সেখানে তাঁদের এমন মন্তব্য গোটা নারীসমাজকে অপমান করার সামিল।” তিনি আরও বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একজন নারী হয়েও কেন এই ধরনের মন্তব্যের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না, তা আমার বোধগম্য নয়। এই বিষয়ে তাঁর নীরবতা ধিক্কারযোগ্য।”
রাজনৈতিক তরজা চরমে
অগ্নিমিত্রা পালের এই আক্রমণ স্বাভাবিকভাবেই শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের উপর চাপ বাড়িয়েছে। বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল নেতারা ধর্ষণের মতো স্পর্শকাতর ঘটনাতেও অসংবেদনশীল মন্তব্য করে থাকেন এবং অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা করেন। অন্যদিকে, তৃণমূলের পক্ষ থেকে এখনো অগ্নিমিত্রা পালের মন্তব্যের সরাসরি কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে মনে করা হচ্ছে, এই ঘটনার রেশ ধরে আগামী দিনে আরও তীব্র রাজনৈতিক তরজা দেখা যাবে।
কসবার আইন কলেজের ঘটনাটি শুধুমাত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিষয় না থেকে এখন রাজ্যের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের দাবি, অন্যদিকে রাজনৈতিক নেতাদের বিতর্কিত মন্তব্য—এই সব মিলিয়ে কসবার ল’ কলেজ এখন এক অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সাক্ষী।