চোর সন্দেহে তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রের গোপনাঙ্গে আঘাত করল প্রধান শিক্ষক! গ্রেফতার অভিযুক্ত

অভিভাবকরা সন্তানদের সুরক্ষার জন্য যাদের হাতে তুলে দেন, কখনও কখনও সেই শিক্ষকের হাতেই ভেঙে চুরমার হয় শৈশব। চাঞ্চল্যকর এক ঘটনার সাক্ষী হল আলিপুরদুয়ার জেলার মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লক। তৃতীয় শ্রেণির এক ছাত্রকে চুরির অপবাদে মারধরের অভিযোগ উঠেছে আবাসিক স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ আরও ভয়াবহ—ছেলেটির গোপনাঙ্গেও নাকি আঘাত করা হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর শিশুবাড়ি ভগৎপাড়া এলাকার সারদা শিশুমন্দির আবাসিক বেসরকারি বিদ্যালয়ে। অভিযুক্ত শিক্ষক দীপক ঘোষকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করেছে মাদারিহাট থানার পুলিশ।
মুজনাই চা বাগানের শিব মন্দির লাইন এলাকার বাসিন্দা ওই ছাত্র। বাবা কিষান লাল ওঁরাও অভিযোগ করেন, গত শুক্রবার গরমের ছুটি উপলক্ষে তিনি ছেলেকে স্কুল থেকে আনতে গেলে দেখতে পান, ছেলে হাঁটতে পারছে না, শরীর অত্যন্ত দুর্বল। ছেলের মুখে তখন বেরিয়ে আসে নির্মম নির্যাতনের কাহিনি।
ছোট্ট শিশুটি জানায়, প্রধান শিক্ষক দীপক ঘোষ তাকে টাকা চুরির অভিযোগে প্রথমে গালাগালি দেন, পরে ঝাঁটার কাঠি দিয়ে হাতের তালুতে আঘাত করেন, এমনকি গোপনাঙ্গে পর্যন্ত মারেন।রবিবারই বিষয়টি লিখিতভাবে পুলিশকে জানান ছাত্রের বাবা। এরপর দ্রুত অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয় মাদারিহাট থানার পুলিশ।
অভিযোগ স্বীকার করে নিয়েছেন দীপক ঘোষ। তিনি বলেন,“আমার পকেট থেকে বারবার টাকা চুরি হচ্ছিল। রাগের মাথায় ছেলেটিকে শাসন করেছি। কিন্তু বুঝিনি, এতটা কষ্ট দিচ্ছি। মাত্রা ছাড়িয়ে গিয়েছে।”
আলিপুরদুয়ারের পুলিশ সুপার ওয়াই রঘুবংশী জানিয়েছেন,“ছাত্রের বাবার অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই তদন্ত শুরু হয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে অভিযুক্ত শিক্ষককে।”এই ঘটনায় বিদ্যালয়, শিশু সুরক্ষা সংস্থা ও স্থানীয় মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। শিশু অধিকার রক্ষা সংগঠনগুলিও কড়া নিন্দা জানিয়েছে।
এই ঘটনা ফের প্রমাণ করে দেয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিশুর সুরক্ষা কতটা জরুরি। শিশুদের শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি করে কোনও শাসনই গ্রহণযোগ্য নয়। শিক্ষার নামে নিপীড়ন কখনোই মেনে নেওয়া যায় না।