বদলে গেল নিয়ম! বাড়ি, জমি কিনলে শুধু রেজিস্ট্রি করলেই হবে না, জেনেনিন জরুরি নথিগুলো

বহু বছরের স্বপ্ন, অনেক কষ্ট করে জমানো টাকায় বাড়ি বা ফ্ল্যাট কিনেছেন? রেজিস্ট্রি করে নিশ্চিন্ত হয়ে ভাবছেন, এবার আপনিই তার একমাত্র মালিক? আপনার এই ধারণাটি এবার বদলে গেছে। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের এক যুগান্তকারী রায়ের পর সম্পত্তির মালিকানা প্রমাণের জন্য কেবল রেজিস্ট্রি সার্টিফিকেট যথেষ্ট নয়।
জমি বা ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে নতুন নিয়মগুলি না জানলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে পারেন।
সুপ্রিম কোর্টের নতুন রায়: মালিকানার সংজ্ঞা বদল
নতুন রায়ে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, যদি কোনো সম্পত্তির পূর্ববর্তী হস্তান্তর ‘আনরেজিস্টার্ড সেল এগ্রিমেন্ট’ বা অনিবন্ধিত বিক্রয় চুক্তির মাধ্যমে হয়ে থাকে, তাহলে পরবর্তীকালে সেই সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করা হলেও সেই চুক্তিটি আইনত মালিকানার ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হবে না।
এর অর্থ হলো, কেবল সরকারি নিয়ম মেনে রেজিস্ট্রি করলেই আপনার মালিকানা সম্পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে না। কারণ, রেজিস্ট্রি সার্টিফিকেট শুধুমাত্র এই প্রমাণ দেয় যে, সম্পত্তির কেনাবেচার প্রক্রিয়াটি আইন মেনে সম্পন্ন হয়েছে।
মালিকানা প্রমাণের জন্য কোন নথিগুলো অত্যাবশ্যক?
এখন থেকে আপনার কেনা সম্পত্তির নিরঙ্কুশ মালিকানা প্রমাণ করার জন্য আপনাকে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ নথি নিজের কাছে রাখতে হবে। শুধুমাত্র রেজিস্ট্রি সার্টিফিকেট দিয়ে আপনার মালিকানা প্রমাণ করা কঠিন হতে পারে। নিচে দেওয়া নথিগুলো থাকা একান্তই জরুরি:
- সেল ডিড (Sale Deed): এটি সম্পত্তির প্রকৃত বিক্রয় চুক্তি, যা কেনাবেচার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে।
- টাইটেল ডিড (Title Deed): এটি সম্পত্তির মালিকানার ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে, অর্থাৎ পূর্ববর্তী মালিক কে ছিলেন তা নিশ্চিত করে।
- মিউটেশন সার্টিফিকেট (Mutation Certificate): পৌরসভা বা পঞ্চায়েত থেকে প্রাপ্ত মালিকানা পরিবর্তনের শংসাপত্র।
- প্রপারটি ট্যাক্সের রসিদ (Property Tax Receipts): সম্পত্তির কর নিয়মিত জমা দেওয়ার প্রমাণ।
- পজিশন লেটার (Possession Letter): সম্পত্তি আপনার দখলে আছে, তার প্রমাণপত্র।
- দলিল পত্র (Legal Documents): সম্পত্তির সঙ্গে সম্পর্কিত অন্যান্য সব আইনি নথি।
ভবিষ্যতে সমস্যা এড়াতে যা মনে রাখবেন
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আপনার কেনা সম্পত্তির ওপর যদি পরবর্তীতে কেউ মিথ্যা দাবি করে বসে, তবে এই সব নথি ছাড়া আইনগতভাবে তা মোকাবিলা করা কঠিন হবে। তাই, এখন থেকে যেকোনো সম্পত্তি কেনার সময় শুধু রেজিস্ট্রি সার্টিফিকেট নয়, উপরোক্ত প্রতিটি নথি সংগ্রহ এবং সংরক্ষণ করাকে আপনার প্রথম কাজ হিসেবে গণ্য করুন। এটি আপনার স্বপ্নের বাড়ির মালিকানাকে আইনগতভাবে সুরক্ষিত রাখবে।