“আন্দোলনকারীর পা ভেঙে দাও, পুরস্কার দেব!”–ভাইরাল ভিডিওতে পুলিশের বিতর্কিত নির্দেশ

পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পদপিষ্ট হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে কংগ্রেসের বিক্ষোভ মিছিল দমনে এক অভিনব এবং বিতর্কিত নির্দেশ দিয়েছেন ভুবনেশ্বরের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (এসিপি) নরসিংহ ভোল। বাঁশের ব্যারিকেড ও কাঁটাতারের বেষ্টনীর সামনে দাঁড়িয়ে তিনি পুলিশকর্মীদের নির্দেশ দেন, “যদি কেউ এখানে পৌঁছয় তাহলে তার পা ভেঙে দেবে। তাকে ধরবে না। শুধু পা ভেঙে দেবে। তাদেরকে ধরার জন্য আমরা অন্য দিকে আছি। আর, যে পা ভাঙতে পারবে সে আমার কাছে এসে পুরস্কার নিয়ে যাবে।” এই নির্দেশনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন ওই পুলিশ আধিকারিক।
ওডিশার যুব কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, নরসিংহ ভোল মুখ্যমন্ত্রী মোহন চরণ মাঝির বাড়ির সামনে স্থাপন করা ব্যারিকেডের কাছে দাঁড়িয়ে পুলিশকর্মীদের নির্দেশ দিচ্ছেন। সেখানে পুরীর ঘটনার প্রতিবাদে কংগ্রেসের বিক্ষোভ মিছিল আসার কথা ছিল। মুখ্যমন্ত্রী’র বাসভবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে বাঁশের ব্যারিকেড তৈরি করা হয়েছিল এবং বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। ভিডিওতে নরসিংহ ভোলকে স্পষ্টতই পুলিশকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলতে শোনা যায়, আন্দোলনকারীদের ব্যারিকেড ভাঙতে দেখলে তাদের পা ভেঙে দিতে এবং যারা এই কাজ সফলভাবে করবে, তাদের পুরস্কৃত করার কথা বলছেন। তার এই নির্দেশ শুনে পুলিশকর্মীরাও ‘ঠিক আছে’ বলে সম্মতি জানান।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর চতুর্দিকে সমালোচনা শুরু হলে নরসিংহ ভোল নিজের সুর নরম করেন। তিনি দাবি করেন যে, “কোথায়, কোন পরিস্থিতিতে কী বলা হচ্ছে তাও মাথায় রাখতে হবে।” তার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অবাধ্য বিক্ষোভকারীদের আটক করার জন্যই ওই নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, যদি কোনো বিক্ষোভকারী দুটি ব্যারিকেডই ভেঙে ফেলে, তবে সে নিজেই বেআইনি কাজ করবে এবং তাদের থামানোর জন্য সর্বোচ্চ বলপ্রয়োগ করা যেতে পারে। যদিও তার এই ব্যাখ্যা সমালোচকদের কতটা সন্তুষ্ট করতে পারবে, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
ମୁଖ୍ୟମନ୍ତ୍ରୀଙ୍କ ବାସଭବନ ଆଗରେ ମୁତୟନ ସୁରକ୍ଷାକର୍ମୀଙ୍କୁ ଆନ୍ଦୋଳନକାରୀଙ୍କ ଗୋଡ଼ ଭାଙ୍ଗି ଦେବାକୁ ନିର୍ଦ୍ଦେଶ ଦେଉଛନ୍ତି ବରିଷ୍ଠ ପୋଲିସ ଅଧିକାରୀ, କହୁଛନ୍ତି ଗୋଡ଼ ଭାଙ୍ଗ, ମୋ ପାଖରୁ ପୁରସ୍କାର ନିଅ
ଓଡ଼ିଶାର ପୋଲିସ ଲୋକଙ୍କର ନୁହେଁ କେବଳ VVIPଙ୍କ ପାଇଁ ! 👇 pic.twitter.com/gBbhOMqvLI
— Odisha Youth Congress (@IYCOdisha) June 29, 2025
উল্লেখ্য, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পদপিষ্টের ঘটনায় ইতিমধ্যেই ওডিশা সরকার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে। ওডিশার আইনমন্ত্রী পৃথ্বীরাজ হরিচন্দ্রন জানিয়েছেন, আগামী ৩০ দিনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে ওই তদন্ত রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একদিকে পুরীর মন্দিরে ঘটে যাওয়া দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা এবং অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের প্রতি পুলিশের এই বিতর্কিত নির্দেশ ওডিশার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। এই ঘটনা গণতন্ত্রে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার এবং পুলিশের বলপ্রয়োগের সীমা নিয়ে এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।