কসবা ল’ কলেজে গণধর্ষণকাণ্ডে হাইকোর্টের দ্বারস্থ ৩ আইনজীবী, চাইল জনস্বার্থ মামলা দায়েরের অনুমতি

সাউথ ক্যালকাটা ল’ কলেজে ছাত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিন আইনজীবী। সোমবার আদালতের কাজ শুরু হতেই বিচারপতি সৌমেন সেনের এজলাসে তাঁরা জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়েরের অনুমতি চান। মূলত, তদন্তের নিরপেক্ষতা ও কলেজ চত্বরে ছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে আদালতের হস্তক্ষেপ চেয়ে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান আইনজীবীরা।

বিচারপতি সেন ৩টি মামলারই দায়েরের অনুমতি দিয়েছেন। একইসঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নোটিশ পাঠানোর নির্দেশও দিয়েছেন তিনি। মামলাগুলির পরবর্তী শুনানি হতে পারে বৃহস্পতিবার।

তিন আইনজীবী—সৌম্যশুভ্র রায়, সায়ন দে ও বিজয় কুমার সিংহল—আদালতে জানান, কসবায় ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ ঘটনার তদন্তে স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর আশঙ্কা রয়েছে। তাঁদের দাবি, আদালত যেন নজরদারি করে দেখে তদন্ত কীভাবে এগোচ্ছে, এবং রাজ্যের কলেজগুলিতে ছাত্রীদের সুরক্ষায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

গত শুক্রবার কসবা ল’ কলেজে এক প্রথম বর্ষের ছাত্রীকে গণধর্ষণের অভিযোগ সামনে আসে। ঘটনার পর থেকেই রাজ্য রাজনীতি সরগরম। ইতিমধ্যেই মূল অভিযুক্ত TMCP নেতা মনোজিত মিশ্র সহ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে বিরোধীদের অভিযোগ, FIR-এ অভিযুক্তদের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করায় পুরো তদন্ত নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।

এই প্রেক্ষিতেই আদালতের দ্বারস্থ হন আইনজীবীরা। বিচারপতি সৌমেন সেন মামলার গ্রহণযোগ্যতা স্বীকার করে বলেন, তদন্তের স্বচ্ছতা এবং শিক্ষাঙ্গনে নিরাপত্তা রক্ষায় আদালতের নজরদারি প্রয়োজন। তাই মামলা গ্রহণ করে তিনি বৃহস্পতিবার শুনানির দিন ধার্য করেছেন।

ঘটনার পর থেকে বিরোধী দলগুলি একযোগে রাজ্য সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আঙুল তুলেছে। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে আদালতের হস্তক্ষেপে তদন্তে গতি ও স্বচ্ছতা আসবে কি না, তা নিয়ে আশায় থাকছেন বহু মানুষ। পাশাপাশি কলেজ চত্বরে ছাত্রছাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়েও কড়া নির্দেশ আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।