“পুলিশ একা ধর্ষণ আটকাতে পারবে না”, এবার ধর্ষণকাণ্ড নিয়ে অদ্ভুত যুক্তি দিলেন পুলিশের DGP!

আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে চাঞ্চল্যকর যৌন হেনস্থার ঘটনার পর ১০ মাস পেরিয়ে গেলেও রাজ্যের শিক্ষাঙ্গনে ফের একবার নারকীয় গণধর্ষণের অভিযোগ। এবার ঘটনাস্থল কসবার আইন কলেজ। ভিকটিম এক প্রথম বর্ষের ছাত্রী। ঘটনার মূল অভিযুক্ত কলেজেরই ‘দাদা’—অস্থায়ী কর্মী ও তৃণমূল ঘনিষ্ঠ এক যুবক। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই দেশজুড়ে নারী সুরক্ষা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
আর ঠিক এই আবহে ধর্ষণ প্রসঙ্গে বিতর্কিত মন্তব্য করে বসলেন মধ্যপ্রদেশের ডিজিপি কৈলাশ মাকওয়ানা। তাঁর সাফ কথা, “ধর্ষণ একা পুলিশের পক্ষে আটকানো সম্ভব নয়।”
একটি উচ্চপর্যায়ের পুলিশি বৈঠক শেষে তিনি বলেন,“যেভাবে ইন্টারনেটে পর্নোগ্রাফি পাওয়া যাচ্ছে, তাতে শিশুদের মনন দূষিত, বিকৃত হচ্ছে। ধর্ষণের ঘটনা বাড়ার নেপথ্যে একাধিক কারণ রয়েছে। এর মধ্যে মোবাইল, ইন্টারনেট, পর্নোগ্রাফি ও মদ রয়েছে। আজ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যে কোনও জায়গা থেকে অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছে। একাধিক কারণ হয়েছে সামাজিক অবক্ষয়ের। পুলিশ একা তা আটকাতে পারে না।”
ডিজিপির বক্তব্যে উঠে আসে আরও কিছু অস্বস্তিকর বাস্তব। তিনি বলেন,“আগে পরিবারের সদস্য কিংবা শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভয় ছিল, আজকের দিনে তা অনেকটাই উধাও। অভিভাবকরা ব্যস্ত, শিশুরা একা। হাতে স্মার্টফোন, যেখানে সহজেই মিলছে অশ্লীল কনটেন্ট। শিশুদের মনন নষ্ট হচ্ছে, যার ফলেই এমন ভয়ঙ্কর ঘটনা ঘটছে। মদ, অশালীনতা ও প্রযুক্তির অপব্যবহার—সব মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে অপরাধের অনুকূল পরিবেশ।”
এদিকে, মধ্যপ্রদেশ বিধানসভার তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে নারী নির্যাতনের ছবি ভয়াবহ।
২০২০ সালে ধর্ষণের মামলা ছিল ৬,১৩৪টি
২০২৪ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭,২৯৪টি — অর্থাৎ প্রায় ১৯ শতাংশ বৃদ্ধি
গড় হিসাবে প্রতিদিন ২০টি ধর্ষণের অভিযোগ নথিভুক্ত হচ্ছে রাজ্যে
নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার এই ভয়াবহ দুর্বলতার মধ্যেই ডিজিপির এমন মন্তব্যে রীতিমতো ক্ষোভ ছড়িয়েছে বিভিন্ন মহলে। প্রশ্ন উঠছে, পুলিশই যদি হাত তুলে দেয়, তবে নারী সুরক্ষার দায়িত্ব কে নেবে?
নারী অধিকার রক্ষাকারী সংগঠনগুলির মতে, প্রযুক্তি কিংবা সমাজের অবক্ষয় দায়ী হতে পারে, কিন্তু প্রশাসনের দায় এড়ানো চলবে না। কারণ অপরাধ যতই বাড়ুক, প্রতিরোধের প্রথম দায়িত্ব থেকেই যায় আইনের হাতে।
আরজি কর হোক বা কসবা—প্রতিটি ঘটনায় যেন বারবার প্রমাণিত হচ্ছে, নারী সুরক্ষা কেবল নীতিগত প্রতিশ্রুতি নয়, বরং বাস্তবিক দিক থেকে এখন তা চরম সঙ্কটের মুখে।