‘নারী বিদ্বেষী’ বলে আক্রমণ মহুয়ার! পাল্টা তোপ দাগলেন কল্যাণ, বললেন “একজন মহিলাকেই ঘৃণা করি”

তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে ফের উত্তাল পরিস্থিতি। প্রকাশ্যে দুই সাংসদের মধ্যে তীব্র বাক্‌যুদ্ধ। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্রের মধ্যে প্রকাশ্যে বিস্ফোরক লড়াই শুরু হয়েছে। একজন নাম না করে নারীবিদ্বেষের অভিযোগ তুলেছেন, আর অপরজন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি “ঘৃণা করেন মহুয়া মৈত্রকে।”

কী নিয়ে এই দ্বন্দ্ব?
কসবা ল’ কলেজে এক ছাত্রীর উপর ঘটে যাওয়া গণধর্ষণের ঘটনায় গোটা রাজ্যজুড়ে যখন ক্ষোভের আগুন, তখন তৃণমূল নেতৃত্ব জানিয়ে দেয়—অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু এই আবহে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য ঘি ঢালে আগুনে।

কল্যাণ বলেন,“বন্ধু যদি বান্ধবীকে ধর্ষণ করে, তাহলে নিরাপত্তা কে দেবে? কলেজে যদি এমন হয়, সেখানে কি পুলিশ থাকবে? নিরাপত্তা তো সহপাঠীরাই দেয়, কিন্তু তারাই যদি এমন করে!”

এরপরই তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রও বলেন,“কাউকে সঙ্গে নিয়ে গেলে হয়তো এমনটা হত না।”

এই ধরনের মন্তব্যের তীব্র বিরোধিতা করে তৃণমূল কংগ্রেস সামাজিক মাধ্যমে জানায়—এই মন্তব্যগুলি ব্যক্তিগত এবং দলের অবস্থানের সঙ্গে মিল নেই।

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে নাম না করেই কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র টুইটে লেখেন,“নারীবিদ্বেষ দলীয় সীমানা মানে না। যারা এমন মন্তব্য করেন, তাদের বিরুদ্ধে তৃণমূল কখনও নরম হয়নি।”

মহুয়ার এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নাম করেই বলেন,“আমি নারীবিদ্বেষী নই। তবে মহুয়া মৈত্রকে আমি ঘৃণা করি। উনি দেড় মাস হানিমুন শেষে দেশে ফিরে এসে সবাইকে আক্রমণ করছেন। মহুয়া নিজেই নারীবিদ্বেষী। কৃষ্ণনগরে কোনও মহিলা নেত্রী যেন উঠে না আসেন, সেটা তিনিই নিশ্চিত করেন।”

সামনে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই কসবা ধর্ষণ কাণ্ডে দলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে এই ধরনের মন্তব্য। তার উপর দলের দুই শীর্ষস্থানীয় সাংসদের প্রকাশ্য লড়াই আরও বেশি করে চাপে ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেসকে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এই বিরোধ দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজনেরই প্রতিচ্ছবি। কেউ কেউ বলছেন, “যেখানে সরকার ও দল যৌথভাবে অপরাধের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিতে চাইছে, সেখানে এমন ব্যক্তিগত লড়াই জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।”