আকাশপথে ফের বিশৃঙ্খলা! AIR ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসে মদ্যপ যাত্রী, যা করলেন এয়ার হোস্টেসের সঙ্গে?

সম্প্রতি আকাশপথে যাত্রীদের বিশৃঙ্খল আচরণের ঘটনা বেড়েই চলেছে। এবার দুবাই থেকে জয়পুরগামী এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের একটি বিমানে এক মদ্যপ যাত্রীর বিরুদ্ধে মহিলা কেবিন ক্রুর সঙ্গে অসভ্য আচরণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি গুরুতরভাবে নিয়েছে বিমান সংস্থা এবং অবিলম্বে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও পরবর্তী পদক্ষেপ
সংবাদ সংস্থা ANI-এর সূত্র অনুযায়ী, বিমানটি উড্ডয়নের সময় একজন যাত্রী, যিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে ধারণা, কেবিন ক্রুর এক সদস্যের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। বিমানটি জয়পুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পরপরই ঘটনাটি বিমানবন্দর নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।
এরপর পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করা হয় এবং এয়ার ইন্ডিয়া এক্সপ্রেসের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হয়। বর্তমানে এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে খবর। একটি সূত্র ANI-কে জানিয়েছে, “বিমান সংস্থা একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দিয়েছে। ঘটনাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে।”
তবে অভিযুক্ত যাত্রীর পরিচয় বা ঠিক কী ধরনের অসভ্য আচরণ তিনি করেছেন, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, কারণ তদন্ত প্রক্রিয়া চলছে।
সাম্প্রতিক বিশৃঙ্খলার আরও একটি উদাহরণ
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন সম্প্রতি এয়ার ইন্ডিয়ার আরও একটি বিমানে মাঝআকাশে বিশৃঙ্খলার অভিযোগ উঠেছিল। সেই ঘটনাটি ছিল অমৃতসর থেকে দিল্লিগামী বিমানে, যেখানে এক যাত্রী অবতরণের কিছুক্ষণ আগে অপর যাত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।
এয়ার ইন্ডিয়ার একটি অফিসিয়াল বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, “কেবিন ক্রুর এক সদস্য দেখেন, একজন যাত্রী আইলের মধ্যে দাঁড়িয়ে অপর যাত্রীর সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েছেন। দ্বিতীয় যাত্রী অভিযোগ করেন, প্রথমজন তাঁকে গালিগালাজ করছেন।” পরিস্থিতি যাতে আরও উত্তপ্ত না হয়, তাই কেবিন ক্রু দ্রুত হস্তক্ষেপ করেন এবং অভিযোগকারী যাত্রীকে বিজনেস ক্লাসে বসানো হয় অবতরণ পর্যন্ত। বিতর্কে জড়ানো যাত্রীকে এরপর বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
DGCA-এর নিয়মাবলী ও সম্ভাব্য শাস্তি
ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (DGCA)-এর নিয়ম অনুযায়ী, এমন ধরনের ঘটনাকে বিমান সংস্থাগুলিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে নিতে হয়। নিয়ম অনুযায়ী, বিমান সংস্থাকে নিজস্ব অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করে ঘটনার তদন্ত করতে হয়। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে, অভিযুক্ত যাত্রীকে ‘নো-ফ্লাই’ তালিকাতেও রাখা হতে পারে, যার ফলে ভবিষ্যতে তিনি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিমানে ভ্রমণ করতে পারবেন না।
এই ধরনের ঘটনাগুলি আকাশপথে যাত্রী ও কর্মীদের নিরাপত্তার বিষয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা রোধে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করছে।