স্বামীর চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে, গলায় পা দিয়ে খুন করল স্ত্রী! কারণ জানলে চমকে উঠবেন

সম্পর্কের আড়ালে লুকিয়ে থাকা অন্ধকার আবারও প্রকাশ্যে এল। কর্নাটকের তুমকুরু জেলার কাদাশেট্টিহালি গ্রামে স্বামী হত্যার ঘটনায় গ্রেফতার হলেন এক গৃহবধূ। অভিযোগ, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জেরে প্রেমিকের সঙ্গে মিলে নিজে হাতে স্বামীকে হত্যা করেন ওই মহিলা। খুনের পদ্ধতি এবং পরে দেহ লুকনোর কৌশল সব মিলিয়ে রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ৫০ বছর বয়সী শঙ্করমূর্তি ফার্মহাউসে একাই থাকতেন। তাঁর স্ত্রী সুমঙ্গলা স্থানীয় একটি স্কুলের হস্টেলে রান্নার কাজ করতেন। সেখানেই নাগারাজু নামক এক ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়, যা পরে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কে রূপ নেয়। বিষয়টি জানতে পেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে উত্তেজনা ও তর্ক-বিতর্ক চলতে থাকে।
শেষমেশ ২৪ জুন রাতে প্রেমিক নাগারাজুর সঙ্গে মিলে খুনের ছক কষে সুমঙ্গলা। অভিযোগ, সেদিন রাতে তিনি বাড়িতে ফিরে স্বামীর চোখে লঙ্কার গুঁড়ো ছিটিয়ে দেন। তারপর লাঠি দিয়ে মারধর এবং শেষে গলায় পা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন স্বামীকে। খুনের পর শঙ্করমূর্তির দেহ বস্তাবন্দি করে ৩০ কিলোমিটার দূরে একটি ফার্মের কুয়োয় ফেলে দেন দু’জনে।
প্রথমে পরিবারের তরফে নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ শঙ্করমূর্তির বিছানায় ধস্তাধস্তির চিহ্ন এবং লঙ্কার গুঁড়োর দাগ পায়। এর থেকেই সন্দেহ বাড়তে থাকে। পরে সুমঙ্গলার মোবাইল কল রেকর্ড খতিয়ে দেখে পুলিশ তার প্রেমিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের প্রমাণ পায়। জিজ্ঞাসাবাদে প্রথমে বিষয়টি অস্বীকার করলেও, শেষে ভেঙে পড়েন সুমঙ্গলা এবং নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেন।
পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে এবং তদন্ত চালাচ্ছে নাগারাজুর ভূমিকা নিয়েও। এই ঘটনায় সমাজে নেমে এসেছে চাঞ্চল্য। প্রশ্ন উঠছে—সম্পর্কের নামে এতটা ভয়ংকর হতে পারে কোনও এক পক্ষের প্রতিহিংসা? মুসকান কিংবা সোনম রঘুবংশীর মতো নারীদের পর এবার সুমঙ্গলার নামও উঠে এল উদাহরণ হিসেবে, তবে তা এক ভয়ঙ্কর ব্যতিক্রমের রূপে।