হায়দ্রাবাদে পর্নোগ্রাফি চক্র ফাঁস! ২,০০০ টাকার বিনিময়ে পর্ন ভিডিওর লাইভ স্ট্রিমিং স্বামী-স্ত্রী-র, গ্রেফতার দম্পতি

আধুনিক প্রযুক্তির অপব্যবহার করে কীভাবে অন্ধকার জগতে প্রবেশ করা যায়, তার এক চাঞ্চল্যকর উদাহরণ সামনে এল হায়দ্রাবাদের আম্বারপেটে। দিনের আলোয় সাধারণ দম্পতি সেজে রাতে টাকার বিনিময়ে পর্নোগ্রাফিক ভিডিও তৈরি এবং লাইভ-স্ট্রিম করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এক দম্পতিকে। তাদের এই অবৈধ কার্যকলাপ শুধু সমাজের নৈতিকতাকেই প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলেনি, বরং নিজেদের সন্তানের ভবিষ্যতের ওপরও ফেলেছে গভীর ছায়া।

চার মাস ধরে চালানো এক গোপন অভিযানের পর অবশেষে আম্বারপেট পুলিশ এই দম্পতির পর্দাফাঁস করেছে। জানা গেছে, ‘সুইটি তেলুগু কাপল ২০২৭’ (Sweety Telugu Couple 2027) নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা এই চক্র চালাচ্ছিল। তাদের ব্যবসা ছিল সম্পূর্ণ সাবস্ক্রিপশন-ভিত্তিক। লাইভস্ট্রিমিং দেখার জন্য দর্শকদের থেকে ২০০০ টাকা করে নেওয়া হত, এবং রেকর্ড করা ভিডিও ক্লিপের জন্য চার্জ করা হত ৫০০ টাকা। এই বিপুল অঙ্কের টাকা তারা অনায়াসে কামাচ্ছিল।

সন্তানরা অন্ধকারে, আইনি জট বাড়ল:
এই ঘটনার সবচেয়ে মর্মান্তিক দিক হলো, দম্পতির দুই সন্তান রয়েছে – একজন বি.টেক পড়ছেন এবং অন্যজন ইন্টারমিডিয়েটের প্রথম বর্ষের ছাত্রী। পুলিশ সূত্রে খবর, বাবা-মায়ের এই জঘন্য কার্যকলাপ সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণ অন্ধকারে ছিল। বাবা-মায়ের এই পদক্ষেপ তাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ জীবনে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর উদ্বেগ।

আম্বারপেট পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি আইনের একাধিক ধারায় ওই দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেছে। তাদের ব্যবহৃত সমস্ত ডিভাইস বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং ডিজিটাল লেনদেনের বিস্তারিত তদন্ত চলছে। এই চক্রের সঙ্গে আর কারা জড়িত, এবং আন্তর্জাতিক স্তরে এর কোনও যোগসূত্র আছে কিনা, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

প্রযুক্তি ও নৈতিকতার প্রশ্ন:
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করল যে, প্রযুক্তির দ্রুত প্রসার যেমন মানুষের জীবনকে সহজ করেছে, তেমনই এর অপব্যবহারের মাধ্যমে সমাজের গভীরে কী রকম বিপদ তৈরি হতে পারে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে এই ধরনের বেআইনি ও অনৈতিক কার্যকলাপ কিভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে, তা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সাইবার ক্রাইমের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি। এই ঘটনা হায়দ্রাবাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি সতর্কবার্তা, যা অনলাইন পর্নোগ্রাফি এবং এই জাতীয় অপরাধ দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরল।