হানিমুন মার্ডার কেসে নয়া মোড়, বিচারকের কাছে স্বীকারোক্তি দিতে নারাজ ২ অভিযুক্ত

মেঘালয়ের ‘হানিমুন মার্ডার’ মামলায় নতুন মোড়। রাজা রঘুবংশী খুনের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া তিন আততায়ীর মধ্যে দু’জন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে স্বীকারোক্তি দিতে রাজি হয়নি। এর আগে পুলিশ দাবি করেছিল, তিন আততায়ীই তাদের কাছে খুনের কথা কবুল করেছে। সূত্রের খবর, আকাশ রাজপুত এবং আনন্দ কুড়মি নামে এই দুই আততায়ী বিচারকের সামনে কোনো কথা বলতে চায়নি।
শিলং শহরের পুলিশ সুপারিনটেনডেন্ট এবং বিশেষ তদন্তকারী দলের (SIT) শীর্ষ আধিকারিক হারবার্ট পিনিয়াইদ খারকোঙ্গর আজ (বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন) জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করানো হয়েছিল আকাশ রাজপুত এবং আনন্দ কুড়মিকে। কিন্তু তারা বিচারকের কাছে কোনো বিবৃতি দিতে অস্বীকার করে।
খারকোঙ্গর বলেন, “এই ঘটনায় পাঁচ অভিযুক্তের মধ্যে ওই দু’জনকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পাঠানো হয়েছিল। তারা বিচারকের কাছে বয়ান না দিলেও তাদের বিরুদ্ধে আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। আপাতত আমরা FSL (ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি) রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি।”
পুলিশের স্বীকারোক্তি বনাম বিচারকের কাছে বয়ান
এর আগে মেঘালয় পুলিশ দাবি করেছিল যে, এই ঘটনায় সকল অভিযুক্ত তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে। এই প্রসঙ্গে খারকোঙ্গর ব্যাখ্যা করেন, পুলিশের কাছে দেওয়া স্বীকারোক্তি আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, “অভিযুক্তরা যে স্বীকারোক্তি দিতে চায়নি সেটা তাদের অধিকার। তবে আমাদের কাছে তাদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ রয়েছে। এই মামলায় আমাদের কাছে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে।”
গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার
প্রসঙ্গত, এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে বুধবার (২৫ জুন) ইন্দোরের পালাসিয়া এলাকার একটি নালা থেকে মেঘালয় পুলিশের একটি দল একটি প্লাস্টিকের ব্যাগ উদ্ধার করে। সূত্রের খবর, সেই ব্যাগের মধ্যে একটি দেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগাজিন এবং দুটি ০.৩২ বোরের কার্তুজ পাওয়া গেছে। এর সঙ্গে একটি মোবাইল ফোনও উদ্ধার হয়েছে। মেঘালয় পুলিশের একাংশ মনে করছে, ব্যাগের মধ্যে থাকা এই জিনিসপত্র মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত ‘গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ’ হতে পারে। মামলার তদন্ত এখন FSL রিপোর্টের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে।