সরকারি হাসপাতালে চাকরি!-নিয়োগপত্র নিয়ে হুলস্থূল কান্ড ঘাটাল সুপার স্পেশালিটিতে

সরকারি হাসপাতালে রিসেপশনিস্ট পদে নিয়োগের এমনই এক ভুয়ো নিয়োগপত্র দেখে চক্ষু চড়কগাছ স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকদের। সম্প্রতি এমনই একটি নিয়োগপত্র নিয়ে ঘাটাল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে কাজে যোগ দিতে যান এক মধ্যবয়সী মহিলা, যা ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক।
হাসপাতাল সুপারের নজরে বিষয়টি আসার পর ওই মহিলাকে দ্রুত মেদিনীপুরে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের (CMOH) দপ্তরে পাঠানো হয়। CMOH সৌম্য শঙ্কর সড়ঙ্গী এমন অদ্ভুত নিয়োগপত্র দেখার পরই মহিলাকে বসিয়ে রেখে কোতোয়ালি থানায় খবর দেন। এদিকে, ঘাটাল হাসপাতাল থেকে ভুয়ো নিয়োগের বিষয়টি জানতে পেরে ওই মহিলা নিজেই ঘাটাল থানায় পাল্টা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
জানা গেছে, প্রতারণার শিকার এই মহিলার বাড়ি ঘাটাল এলাকায়। পুলিশের কাছে তিনি জানিয়েছেন যে, তিনি প্রতারিত হয়েছেন। মহিলা বলেন, “অনলাইনে ফর্ম ফিলাপ করেছিলাম। বুঝতে পারিনি।” তার অভিযোগ, ডায়মন্ড হারবার হাসপাতালের কাছে সিএলআর (CLR) নামে একটি সংস্থা এই নিয়োগপত্রটি ইস্যু করেছে। অনলাইন ফর্ম পূরণের পরই তিনি এই নিয়োগপত্র হাতে পেয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ইস্যু হওয়া ওই নিয়োগপত্র নিয়ে বৃহস্পতিবার কাজে যোগ দিতে গিয়েছিলেন ওই মহিলা। নিয়োগপত্রে মাসিক ১৫ হাজার টাকা বেতনের কথা লেখা ছিল। মহিলা আরও জানান, ওই সংস্থা তাঁর কাছ থেকে আড়াই হাজার টাকা ড্রেস তৈরির খরচ বাবদ নিয়েছিল। তবে ২০২৩ সালে নিয়োগপত্র পেয়ে প্রায় দেড় বছর বাদে কেন তিনি চাকরিতে যোগ দিতে এলেন, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
হাসপাতাল সুপার জানিয়েছেন, ওই মহিলার নিয়োগপত্র সঠিক নয়। এরপরই তাঁকে মেদিনীপুরে স্বাস্থ্য দপ্তরে যোগাযোগ করতে বলা হয়। প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি বুঝতে পারার পর মহিলা নিজেই পুলিশের দ্বারস্থ হন।
CMOH সৌম্য শঙ্কর সড়ঙ্গী বলেন, “কাজে যোগ দেওয়ার জন্য নিয়োগপত্র নিয়ে এসেছিলেন এক মহিলা। কিন্তু, ওই নিয়োগপত্র দেখে ভুয়ো মনে হলো।” তিনি আরও জানান, “ঘাটাল হাসপাতালে রিসেপশনিস্ট বলে কোনো পদ নেই, সরকারের অনুমোদনও নেই।” তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সিএলআর নামে একটি সংস্থা ২০২৩ সালে এই ভুয়ো নিয়োগপত্র ইস্যু করেছিল।
সৌম্য শঙ্কর সড়ঙ্গী আরও বলেন, মহিলা নিয়োগপত্র নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি এবং বারবার বয়ান বদলানোয় পুলিশে খবর দেওয়া হয়। তিনি জানান, “বিষয়টি পুলিশকে জানিয়েছি। এরকম চক্র আগেও ধরা পড়েছে। গরিব মানুষকে ভুল বুঝিয়ে এসব করানো হচ্ছে।” পুলিশ এখন এই প্রতারণা চক্রের সন্ধানে নেমেছে।