OMG! ছাত্রীদের ব্রেন দেখাতে ক্লাসরুমে গরুর মাথা নিয়ে গেলেন শিক্ষিকা, হারাতে হলো চাকরি

তেলঙ্গানার ভিকারাবাদ জেলার ইয়ালাল মণ্ডলের জেডপিএইচএস গার্লস হাই স্কুলে এক নজিরবিহীন ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্কুলের বিজ্ঞান শিক্ষিকা খাসিমা বি দশম শ্রেণির ছাত্রীদের মানব মস্তিষ্কের গঠন শেখানোর জন্য ক্লাসরুমে একটি গরুর আস্ত মস্তিষ্ক নিয়ে আসেন। শুধু তাই নয়, অভিযোগ উঠেছে যে তিনি ছাত্রীদের আপত্তি সত্ত্বেও সেই মস্তিষ্কের ছবি তুলে স্কুলের অনলাইন গ্রুপে শেয়ার করেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষিকা খাসিমাকে বরখাস্ত করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ।

কী ঘটেছিল ক্লাসরুমে? ঘটনাটি ঘটে গত মঙ্গলবার। ছাত্রীদের মানব মস্তিষ্কের গঠন ভালোভাবে বোঝাতে গিয়ে বিজ্ঞান শিক্ষিকা খাসিমা বি একটি গরুর মস্তিষ্ক নিয়ে ক্লাসে হাজির হন। শিক্ষার্থীদের সামনে সেই মস্তিষ্কটি দিয়ে তিনি গঠনের বিভিন্ন অংশ ব্যাখ্যা করেন। এরপর তিনি সেই মুহূর্তের ছবি তোলেন এবং স্কুলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে শেয়ার করেন। কিছু ছাত্রী এই ঘটনায় আপত্তি জানালেও তিনি কর্ণপাত করেননি বলে অভিযোগ।

বিতর্কের সূত্রপাত ও বিক্ষোভ: এই ঘটনা সামনে আসতেই স্কুলের অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকারা খাসিমার এই পদ্ধতির তীব্র সমালোচনা করেন এবং তাঁকে ছবিগুলো মুছে ফেলার কথা বলেন। বুধবার ঘটনাটি আরও বড় আকার ধারণ করে। ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP) এবং বিভিন্ন হিন্দু সংগঠনের সদস্যরা স্কুলের বাইরে জড়ো হয়ে তীব্র বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

তাঁদের অভিযোগ, আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতিতে যখন থ্রিডি মডেল, ভিডিও বা এলইডি ডিসপ্লে ব্যবহারের মতো উন্নত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে, তখন একজন শিক্ষিকা কীভাবে এমন অপ্রচলিত এবং বিতর্কিত পদক্ষেপ নিতে পারেন? বিক্ষোভকারীরা প্রশ্ন তোলেন, “এটা কি শুধুই শিক্ষার অংশ ছিল, নাকি এর পেছনে কোনো গোপন উদ্দেশ্য ছিল?” তাঁরা ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগও তোলেন।

প্রশাসনের পদক্ষেপ ও বরখাস্ত: ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত স্কুলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেয়। পরবর্তীতে স্কুল কর্তৃপক্ষ শিক্ষিকা খাসিমা বি-কে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এই ঘটনা শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং সংবেদনশীলতা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। সমাজের বিভিন্ন স্তরে এই ঘটনা নিয়ে আলোচনা চলছে, যেখানে একদল শিক্ষকের সৃজনশীলতার পক্ষে কথা বলছেন, আবার অন্যদল ধর্মীয় এবং নৈতিক দিক থেকে এই পদ্ধতির সমালোচনা করছেন।