দুর্গাপূজাকেও হার মানায়! ২০০ বছরের প্রাচীন এই রথযাত্রা ঘিরে জমজমাট গ্রামের উৎসব

যখন রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত পুরী এবং দিঘার রথযাত্রার উন্মাদনায় মগ্ন, তখন মুর্শিদাবাদ জেলার প্রত্যন্ত ব্লক খড়গ্রামের গয়েশপুর গ্রামে এক ভিন্ন ছবি দেখা যাচ্ছে। এখানে সবচেয়ে বড় উৎসব হলো রথযাত্রা—যা কিনা দুর্গাপূজা বা কালীপূজাকেও ছাড়িয়ে যায়। ২০০ বছরের প্রাচীন এই রথযাত্রাকে ঘিরে গ্রামের মানুষের উৎসাহ ও উদ্দীপনা তুঙ্গে।

গোপালকে নিয়ে গ্রাম পরিক্রমা:
ইতিহাস অনুযায়ী, প্রায় ২০০ বছর আগে এই গ্রামেই প্রথম রথের প্রতিষ্ঠা হয়। তবে, এখানকার রথযাত্রার একটি বিশেষত্ব রয়েছে। প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে এখানে জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রাকে রথে অধিষ্ঠিত করে গ্রাম পরিক্রমা করানো হয় না। তার পরিবর্তে, রথে বসিয়ে ঘোরানো হয় গোপালকে! এই ব্যতিক্রমী দৃশ্য দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ ভিড় জমান।

সর্বধর্ম সমন্বয়ের উৎসব:
শুক্রবার, অর্থাৎ রথযাত্রার শুভ দিনে, এই উৎসবে শামিল হবেন এলাকার সকল ধর্মের মানুষ। এই রথ টানার জন্য হিন্দু-মুসলিম-সহ সকল সম্প্রদায়ের মানুষ একসঙ্গে উপস্থিত হন, যা এই উৎসবকে এক সর্বধর্ম সমন্বয়ের মিলনমেলায় পরিণত করেছে।

দশ দিন ধরে চলবে উৎসব:
রথযাত্রা উপলক্ষে গ্রামে আগামী দশ দিন ধরে চলবে মেলা এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। প্যান্ডেল তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। রথযাত্রা কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, এই উৎসবকে কেন্দ্র করে যাত্রা এবং কীর্তনেরও আয়োজন করা হয়, যা দেখতে আশপাশের গ্রামের মানুষও আসেন।

রথের নতুন রূপ:
এই উৎসবকে কেন্দ্র করে কয়েক বছর আগে একটি মন্দিরও নির্মাণ করা হয়েছে। প্রায় দুই দশক আগে কাঠের রথটিও নতুন করে পুনর্নির্মাণ করা হয়। এই বছর রথকে নতুন রূপে সাজানো হয়েছে, যা গ্রামের মানুষের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। রথ কমিটির সদস্যরা জানান, “দুর্গাপূজা বা কালীপূজা নয়, রথযাত্রাকে ঘিরেই আমাদের গ্রামের ছোট থেকে বড় সবাই উৎসবে মেতে ওঠে।” এই ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা গয়েশপুর গ্রামের মানুষের আবেগ ও সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অংশ।