দিঘার রথযাত্রায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা, কলকাতার পুলিশ সার্জেন্টরা এবার সমুদ্রতটে

সামনেই রথযাত্রা উৎসব, আর পূর্ব মেদিনীপুরের সমুদ্রতট দিঘায় এবার সেজে উঠছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। উৎসব ঘিরে কোনো বিশৃঙ্খলা বা যানজট যাতে সৃষ্টি না হয়, সে লক্ষ্যেই কলকাতা পুলিশ বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। লালবাজার সূত্রে খবর, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার জন্য কলকাতা পুলিশের ১০ জন অভিজ্ঞ সার্জেন্টকে বিশেষ দায়িত্বে দিঘায় পাঠানো হচ্ছে।
ব্যস্ত শহরের অভিজ্ঞতা এবার দিঘায়:
জানা গেছে, আগামীকাল, ২৬শে জুন সকালে এই ১০ জন ট্রাফিক সার্জেন্ট তাঁদের নিজস্ব মোটরবাইক নিয়ে দিঘার উদ্দেশে রওনা দেবেন। রথযাত্রা চলাকালীন, অর্থাৎ ২৭শে জুন পর্যন্ত তাঁরা দিঘাতেই থাকবেন। এই সময়ের মধ্যে তাঁদের মূল দায়িত্ব থাকবে সমুদ্রতট এলাকার যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা এবং সুষ্ঠু ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা। ২৮শে জুন তাঁরা আবার কলকাতায় ফিরে আসবেন।
এই সার্জেন্টরা প্রত্যেকেই কলকাতার ব্যস্ততম ট্রাফিক মোড়ে দীর্ঘদিন ধরে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছেন। তাঁদের সেই অভিজ্ঞতা এবার দিঘার মতো পর্যটন কেন্দ্রে বিপুল জনসমাগম সামলাতে কাজে লাগানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতি ও লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম:
এবারের রথযাত্রা উৎসবে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই দিঘায় উপস্থিত থাকবেন বলে খবর। এর পাশাপাশি, রথের দিন লক্ষাধিক ভক্তের সমাগম হবে বলে জেলা প্রশাসন অনুমান করছে। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের চলাচল স্বাভাবিক রাখতে, যানজট এড়াতে এবং রথের পথ মসৃণ রাখতে এই বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দিঘা, মন্দারমণি, শংকরপুর এবং সংলগ্ন এলাকাগুলিতে ইতিমধ্যেই পর্যটকদের ভিড় বাড়তে শুরু করেছে। রথযাত্রা উপলক্ষে এই সংখ্যা আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলেই প্রশাসনের আশঙ্কা। তাই অনিয়ন্ত্রিত পার্কিং বা দুর্ঘটনার সম্ভাবনা এড়াতে দক্ষ ট্রাফিক অফিসারদের ময়দানে নামানো হয়েছে।
যৌথ প্রচেষ্টা ও নজিরবিহীন সমন্বয়:
এই ১০ জন ট্রাফিক সার্জেন্ট দিঘায় পৌঁছে পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করবেন এবং সরাসরি জেলা পুলিশ সুপারের কাছে রিপোর্ট করবেন। নিজেদের বাইক ব্যবহার করে তাঁরা দ্রুততার সঙ্গে বেশি এলাকায় নজরদারি চালাতে পারবেন বলে পুলিশের একাংশ মনে করছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ এবং কলকাতা পুলিশের এই যৌথ উদ্যোগে প্রশাসন আশা করছে, এবারের রথযাত্রা উৎসব সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হবে। এই নজিরবিহীন নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার সমন্বয় আগে খুব একটা দেখা যায়নি বলেই মত অনেকের। এখন দেখার, এই বিশেষ পরিকল্পনা মাঠে কতটা সফল হয় এবং ভক্ত ও পর্যটকরা যানজটমুক্ত ও নিরাপদ পরিবেশে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন কিনা।