কাউন্টডাউন শুরু শিগ্রই তৈরী হবে নয়া ইতিহাস, আজ দুপুরেই মহাকাশ পাড়ি শুভাংশু শুক্লার

দীর্ঘ ৪১ বছরের অপেক্ষা আর সাত-সাতটি পিছিয়ে যাওয়ার পর অবশেষে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ আসন্ন। আজ দুপুরেই মহাকাশের অনন্ত পথে পাড়ি দিতে চলেছেন ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা। ১৯৮৪ সালে রাকেশ শর্মার ঐতিহাসিক যাত্রার পর তিনিই হতে চলেছেন দ্বিতীয় ভারতীয় মহাকাশচারী, যিনি মহাজাগতিক পরিভ্রমণে বের হচ্ছেন। গোটা দেশ আজ এই লখনউয়ের কৃতী সন্তানের দিকে অধীর আগ্রহে তাকিয়ে আছে।

নাসার ‘অ্যাক্সিয়ম-৪’ (Axiom-4) নামক এক বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে শুভাংশু আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে (ISS) পৌঁছবেন। ভারতীয় সময় অনুযায়ী বেলা ১২টা ১ মিনিটে তাঁর মহাকাশ পাড়ি দেওয়ার কথা রয়েছে। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো ১৪ দিনের জন্য মহাকাশে অবস্থান করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো।

প্রত্যাশার পারদ তুঙ্গে:

মহাকাশ অভিযানের প্রাক্কালে শুভাংশু শুক্লা দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেছেন, “দেশবাসীকে ধন্যবাদ জানাতে চাই। অভিযান যাতে সফল হয়, তার জন্য সকলকে প্রার্থনা করার অনুরোধ করছি।” তাঁর এই বিনম্র আবেদন কোটি কোটি ভারতবাসীর হৃদয়ে এক নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

উল্লেখ্য, ভারতীয় মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে ১৯৮৪ সাল এক অবিস্মরণীয় অধ্যায়। সে বছর মহাকাশে পাড়ি দিয়েছিলেন স্কোয়াড্রন লিডার রাকেশ শর্মা। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী যখন মহাকাশ থেকে ভারতকে কেমন দেখাচ্ছে জানতে চেয়েছিলেন, তার উত্তরে রাকেশ বলেছিলেন, “সারে জাঁহা সে আচ্ছা” – যে উক্তি আজও প্রতিটি ভারতবাসীকে গর্বিত করে। এবার সেই ঐতিহ্যের পথ ধরেই শুভাংশু শুক্লা মহাকাশে ভারতের নতুন পদচিহ্ন আঁকতে চলেছেন।

বারবার পিছিয়েও অটুট স্বপ্ন:

প্রথমে চলতি বছরের ২৯ মে শুভাংশুদের এই অভিযান শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিভিন্ন যান্ত্রিক ত্রুটি এবং ‘ড্রাগন’ মহাকাশযানের গোলযোগের কারণে তা ৮ জুন সহ মোট সাত বার পিছিয়ে যায়। তবে বারবার পেছিয়ে যাওয়াও তাঁদের সংকল্পকে টলাতে পারেনি। আজ অবশেষে সেই স্বপ্নপূরণের দিন। শুভাংশু ছাড়াও এই আন্তর্জাতিক অভিযানে আরও তিন জন মহাকাশচারী তাঁর সঙ্গী হচ্ছেন।

এই মহাকাশযাত্রা কেবল শুভাংশু শুক্লার ব্যক্তিগত সাফল্য নয়, এটি ভারতের মহাকাশ গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তার উড়ানের দিকে আজ গোটা বিশ্বের চোখ।