ঘরে নেই খাবার-ঋণে জর্জরিত, সেই পাকিস্তান এবার ভারতকে দিলো সরাসরি যুদ্ধের হুমকি

সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। পাকিস্তানের প্রাক্তন বিদেশমন্ত্রী এবং পাকিস্তান পিপলস পার্টির শীর্ষ নেতা বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, ভারত যদি চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য জল সরবরাহ না করে, তবে পাকিস্তানকে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ করতে হতে পারে। তাঁর এই মন্তব্য দুই দেশের মধ্যে চলমান জল-সংকট এবং কূটনৈতিক টানাপোড়েনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে।

সংসদে দেওয়া এক ভাষণে বিলাওয়াল ভুট্টো ভারতের অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি দাবি করেন যে, সিন্ধু চুক্তি ‘অন্যায়ভাবে স্থগিত’ করা হয়েছে। তাঁর কথায়, “ভারতের কাছে দুটি পথ খোলা আছে: হয় ভদ্রভাবে জল দাও, না হলে ছয়টি নদী থেকে আমরা নিজেরাই জল নিয়ে নেব।” তিনি ভারতের সিন্ধু চুক্তি বাতিল করার ঘোষণাকে ‘অযৌক্তিক, অনৈতিক এবং বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি জাতিসংঘের চার্টারের পরিপন্থী।

উল্লেখ্য, ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সম্প্রতি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, ১৯৬০ সালের সিন্ধু জলবন্টন চুক্তি আর কখনই পুনর্বহাল করা হবে না। ২২ এপ্রিলের পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার ঘটনার পর ২৬ জন পর্যটককে নির্বিচারে হত্যার প্রতিবাদে ভারত সরকার সিন্ধু চুক্তি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয় এবং এই অবস্থানে অনড় রয়েছে।

ভারতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় পাকিস্তানের বিদেশ মন্ত্রক তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল। তারা ভারতকে ‘আন্তর্জাতিক চুক্তির নির্লজ্জ অবহেলা’ করার অভিযোগ তোলে। তবে, সেই সময়ে বিলাওয়াল ভুট্টোর সুর কিছুটা ভিন্ন ছিল। তিনি বলেছিলেন, “যদি ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোনো আলোচনা না হয়, সন্ত্রাসবাদ দমনে দুই পক্ষের মধ্যে যদি কোনো সহযোগিতা না থাকে তবে দুই দেশেই হিংসা আরও বাড়বে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, ভারত ‘রাজনৈতিক স্বার্থে সন্ত্রাসবাদকে মাথাচাড়া দেওয়ার সুযোগ দিচ্ছে’ এবং ‘ভুয়ো জিনিস রটিয়ে পাকিস্তানের বদনাম করছে’। এমনকি, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাশ্মীর সমস্যা সমাধানের উদ্যোগে ভারতের অসহযোগিতার কথাও উল্লেখ করেন।

বর্তমানে পাকিস্তানে তীব্র জলসংকট দেখা দিয়েছে, যার জেরে সাধারণ মানুষ ক্ষুব্ধ হয়ে নেতা-মন্ত্রীদের বাড়িতে হামলা চালাচ্ছে। শাহবাজ শরিফ সরকার পরিস্থিতি সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে এই সংক্রান্ত একাধিক ছবি। পাকিস্তানের এই শোচনীয় জলসংকটের কারণ হিসেবে অনেকে ভারতের সিন্ধু জল চুক্তি স্থগিত করাকে দায়ী করছেন। এমনও শোনা যাচ্ছে যে, পাকিস্তান সরকার ভারতকে চারবার চিঠি লিখেছে জল সংকটের সমাধান চেয়ে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পরিস্থিতিতে বিলাওয়াল ভুট্টোর ‘যুদ্ধ ঘোষণা’র হুঁশিয়ারি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলবে। জল সংকট এবং সন্ত্রাসবাদ – এই দুটি বিষয়ই বর্তমানে ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কে গভীর প্রভাব ফেলছে। তবে, প্রশ্ন হল, এই চাপানউতোর শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেবে? আলোচনা, নাকি আরও গভীর সংঘাত?