“বাবার স্বপ্ন পূরণেই ডাক্তার হওয়ার জেদ!” NEET-এ দীপজ্যোতির নজরকাড়া ফল

ছোটবেলা থেকেই অভাবের সঙ্গে নিত্য যুদ্ধ করে বড় হওয়া। তার উপর বাবার অকালমৃত্যু যেন আরও কঠিন করে তুলেছিল জীবন। কিন্তু, সকল প্রতিকূলতা পেরিয়ে ডাক্তার হওয়ার অদম্য জেদ আলিপুরদুয়ারের দীপজ্যোতি সরকারকে এনে দিল সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় (NEET Exam) দুর্দান্ত সাফল্য। ৭২০-এর মধ্যে ৫১২ নম্বর পেয়ে সে নিজের স্বপ্নের দিকে আরও কয়েক ধাপ এগিয়ে গেল।
NEET-এ দীপজ্যোতির নজরকাড়া ফল:
সর্বভারতীয় নিট পরীক্ষায় দীপজ্যোতি সরকার ৫১২ নম্বর পেয়েছেন। সর্বভারতীয় স্তরে তার ব়্যাঙ্ক ৩৯৪১৩ এবং রাজ্য স্তরে তার স্থান ৯১৪। তার এই সাফল্যে শুধু পরিবার নয়, গোটা আলিপুরদুয়ারের শান্তিনগর এলাকায় খুশির আমেজ। দীপজ্যোতির সকল প্রতিকূলতাকে জয় করে সাফল্য ছিনিয়ে নেওয়ার এই অদম্য স্পৃহা এলাকাবাসীকে গর্বিত করেছে। রবিবার তাকে স্থানীয়ভাবে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়েছে।
মেধাবী ছাত্রের শিক্ষাজীবন:
দীপজ্যোতি ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনায় অত্যন্ত মেধাবী ছিল। চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ব শান্তিনগর প্রাথমিক স্কুলে পড়ার পর সে ম্যাক উইলিয়াম হাইস্কুলে ভর্তি হয়। সেখানে ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে বারোবিশার জওহর নবোদয় বিদ্যালয়ে সুযোগ পায়, যেখান থেকে সে মাধ্যমিক এবং উচ্চমাধ্যমিক পাশ করে। উভয় পরীক্ষাতেই দীপজ্যোতি ৯০ শতাংশের বেশি নম্বর পেয়েছিল, যা তার মেধার পরিচায়ক।
বাবার স্বপ্ন পূরণেই ডাক্তার হওয়ার জেদ:
দীপজ্যোতির জীবনে সবচেয়ে বড় মোড় আসে যখন সে দশম শ্রেণিতে পড়ে। পেশায় রাজমিস্ত্রি তার বাবা তখন ক্যান্সারে আক্রান্ত হন। অর্থাভাবে বাবার সঠিক চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি, এবং একরকম বিনা চিকিৎসাতেই তার মৃত্যু হয়। দীপজ্যোতির মা জানান, বাবার এই অকালমৃত্যুই দীপজ্যোতির মনে ডাক্তার হওয়ার জেদ আরও বেশি করে চাপিয়ে দিয়েছিল। স্বামীর মৃত্যুর পর, দুই সন্তানের পড়াশোনা এবং সংসারের হাল একাই ধরেছেন তিনি, সেলাইয়ের কাজ করে। দিনে ১৪ ঘণ্টা সেলাই করে তিনি দুই সন্তানের পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন।
এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সহায়তায় দীপজ্যোতি পুণেতে এক বছর বিনামূল্যে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে পেরেছে। তার মায়ের একমাত্র ইচ্ছা, ছেলে একজন বড় ডাক্তার হোক। দীপজ্যোতি নিজেও জানায়, “বাবার চিকিৎসা করাতে পারিনি টাকার অভাবে। তাই আরও বেশি করে চাইতাম ডাক্তার হতে।” দীপজ্যোতির এই সাফল্য প্রমাণ করে, অদম্য ইচ্ছা শক্তি এবং কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে যেকোনো বাধাই অতিক্রম করা সম্ভব।