ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় “স্মরণীয় ক্ষতি”; দাবি ট্রাম্পের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিস্ফোরক দাবিতে বলেছেন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সাম্প্রতিক মার্কিন হামলায় “স্মরণীয় ক্ষতি” সাধিত হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ এক পোস্টে তিনি জানান, স্যাটেলাইট চিত্রগুলি ফোর্দো, নাতানজ এবং ইসফাহান – এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় “বিনাশ”-এর চিত্র তুলে ধরছে, যেখানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞের চিহ্ন স্পষ্ট। বিশেষত ফোর্দোর ভূগর্ভস্থ অংশে ক্ষতির পরিমাণ সর্বাধিক বলে তিনি উল্লেখ করেন। যদিও এই হামলার সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে মার্কিন মূল্যায়ন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই দাবি এমন এক সময়ে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তিনি তার পোস্টে জোর দিয়ে বলেন যে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর এই পদক্ষেপ অত্যন্ত সফল এবং কার্যকর হয়েছে। বিশেষ করে, ফোর্দোর মতো সুরক্ষিত ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় এমন আঘাত হানার ক্ষমতাকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির পরিচায়ক হিসেবে তুলে ধরেন।

তবে, তেহরান থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি বার্তা আসছে। ইরানের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, মার্কিন হামলার ফলে যে ক্ষতির কথা বলা হচ্ছে, তা ততটা গুরুতর নয়। ইরান সরকারের মুখপাত্ররা জানিয়েছেন, হামলার আগেই তারা অনেক গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ এবং সংবেদনশীল সরঞ্জাম নিরাপদে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাদের মতে, মার্কিন হামলা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর তেমন কোনো গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারেনি।

এই পরস্পরবিরোধী দাবি আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে। একদিকে ওয়াশিংটন যখন তাদের সামরিক সাফল্যের চিত্র তুলে ধরছে, অন্যদিকে তেহরান তাদের স্থিতিস্থাপকতা প্রমাণে সচেষ্ট। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতার ওপর এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব কী, তা জানতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এবং অন্যান্য নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষকদের মূল্যায়নের দিকে বিশ্ব তাকিয়ে আছে। এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।