এবার থেকে শুধু পড়ুয়ারাই নয়, মিড-ডে মিলের ভাগ পাবে পথ কুকুরাও! বড় উদ্যোগ শিক্ষা মিশনের

শুধু পড়ুয়ারাই নয়, এবার থেকে স্কুলে মিড-ডে মিলের অংশীদার হতে চলেছে পথ কুকুরেরাও। পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র শিক্ষা মিশনের তরফে জারি হওয়া এক নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, রাজ্যের প্রতিটি স্কুলে পড়ুয়াদের পাশাপাশি এবার নিয়মিত খাওয়ানো হবে পথ কুকুরদেরও।

এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য, একদিকে যেমন স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে কুকুরদের দূরে রাখা, তেমনই অন্যদিকে প্রাণী কল্যাণের দিকেও নজর রাখা। তবে এই নির্দেশে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বহু শিক্ষক, যাঁরা এমনিতেই মিড-ডে মিলের কাজ সামলাতে গিয়ে পড়ানোর সময় পাচ্ছেন না বলে দাবি করছেন।

কেন এই উদ্যোগ?
বিগত ২৮ মার্চ, শিশুদের সুরক্ষায় ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রোটেকশন অফ চাইল্ড রাইটস (NCPCR)-এর সুপারিশ অনুযায়ী, একটি নির্দেশিকা পাঠায় শিক্ষা মন্ত্রক। তাতে বলা হয়, স্কুল প্রাঙ্গণে কুকুরদের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করতে হবে যাতে তারা পড়ুয়াদের ক্ষতি না করতে পারে।

২০২৩ সালের Animal Birth Control (ABC) নিয়ম মেনে পুরসভাগুলোকেও এই বিষয়ে সক্রিয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়। পাশাপাশি শিক্ষকদের দায়িত্ব দেওয়া হয়—

স্কুল প্রাঙ্গণ পরিচ্ছন্ন রাখা

কুকুরদের সঙ্গে পড়ুয়াদের সংঘাত এড়ানো

কুকুরকে লক্ষ্য করে ছুঁড়ে মারা, চিৎকার, দৌড়ানো ইত্যাদি আচরণ বন্ধ রাখা

নতুন নির্দেশনায় কী রয়েছে?
নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে—

স্কুল প্রাঙ্গণের বাইরে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে পথ কুকুরদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে

এই কাজে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্য বা নির্ধারিত ব্যক্তিকে যুক্ত করা যেতে পারে

খাবার দেওয়ার সময় ভ্যাকসিন ও জীবাণুনাশক কার্যক্রম চালানো সম্ভব হলে তা জেলা প্রাণীসম্পদ বিকাশ দপ্তরের সহায়তায় করতে হবে

নির্দেশিকা আগামী সোমবার থেকেই প্রতিটি জেলার স্কুলে পৌঁছে যাবে

শুধু পড়ুয়ারা নয়, এবার থেকে পথ কুকুরদের মিড-ডে মিলের ব্যবস্থা করতে হবে  শিক্ষকদেরই

এই সিদ্ধান্তে অস্বস্তিতে পড়েছেন বহু শিক্ষক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন,“মিড-ডে মিলের ব্যবস্থাপনায় আমরা এমনিতেই ব্যস্ত। তাতে বাচ্চাদের পুষ্টিকর খাবার জোগাড় করা মুশকিল হয়। এখন কুকুরদের জন্যও খাবারের ব্যবস্থা করতে হলে চাপ আরও বাড়বে। কাল যদি ২টি কুকুর আসে, পরশু ১০টি আসে—তাহলে তাদের হিসেব রাখব কীভাবে?”

তিনি আরও বলেন,“যদিও বলা হয়েছে বাইরে খাওয়াতে হবে এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠী খাবার দেবে, তবুও একজন শিক্ষককে তো সেখানেও থাকতে হবে। প্রায় সব স্কুলেই শিক্ষক কম—এভাবে দায়িত্ব বাড়লে পড়াশোনাই আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

সরকারি দপ্তরের প্রতিক্রিয়া
বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে, রাজ্য সমগ্র শিক্ষা মিশনের রাজ্য প্রজেক্ট ডিরেক্টর শুভ্র চক্রবর্তী মন্তব্য করতে চাননি। তবে দপ্তরের এক শীর্ষকর্তা জানান—“পথ কুকুরদের জন্য খাবার দেওয়ার নির্দেশিকা ঠিক আছে। কিন্তু সেটা মিড-ডে মিলের বাচ্চাদের খাবার থেকেই দেওয়া হবে কি না, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। আশা করা যায়, আগামী দিনে এ নিয়ে বিস্তারিত গাইডলাইন আসবে।”

এই উদ্যোগ একদিকে যেমন মানবিক, তেমনি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে রয়েছে নানা চ্যালেঞ্জ। শিশুদের নিরাপত্তা ও পঠনপাঠনের ক্ষতি না করে কীভাবে প্রাণী কল্যাণের এই পরিকল্পনা রূপায়ণ করা যায়, এখন সেটাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।