গত ৯ দিন ধরে ইরানের সঙ্গে সংঘাতে প্রতিদিন ইজরায়েলের কত টাকা খরচ হয় জানেন?

একদিকে প্রতিপক্ষের মিসাইল প্রতিহত করতে ‘লৌহকপাট’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অন্যদিকে ইরানের পরমাণু ঘাঁটি লক্ষ্য করে বিমান ও মিসাইল হামলা — গত ৯ দিন ধরে চলা এই সংঘাতে ইসরায়েলের প্রতিদিনের খরচ শুনলে আপনার চোখ কপালে উঠবে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের রিপোর্ট অনুযায়ী, ইরানের হামলা ঠেকাতে ও পাল্টা হামলার জন্য ইসরায়েলের প্রতিদিন প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা) খরচ হচ্ছে।
গত ১৩ জুন ইসরায়েলি সেনারা তেহরান ও এর আশেপাশে ইরানের পরমাণু ও সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালায়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানান, ইসরায়েলের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে ইরানের হুমকির বিরুদ্ধে এই অভিযান শুরু হয়েছে এবং ইরানের পরমাণু ঘাঁটি ধ্বংস না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনেই হুঁশিয়ারি দেন যে, ইসরায়েল ভুল করেছে এবং এর শাস্তি তাদের পেতে হবে। এরপর থেকেই ইসরায়েলে লাগাতার মিসাইল হামলা চালাচ্ছে ইরান।
এই পরিস্থিতিতে একদিকে ইরানের লাগাতার হামলা প্রতিহত করতে হচ্ছে ইসরায়েলকে, অন্যদিকে তাদের পরমাণু ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলাও চালাতে হচ্ছে। এই বিশাল খরচের সিংহভাগই যাচ্ছে ইরানের মিসাইল প্রতিরোধের কাজে। ইসরায়েলের ডেভিড স্লিং এবং অ্যারো-৩ (Arrow-3) প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ইরানের মিসাইলগুলো প্রতিহত করা হচ্ছে। ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল বলছে, একটি মিসাইল প্রতিহত করতে ৭ লক্ষ থেকে ৪ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত খরচ হয়। গত কয়েকদিনে ইরান ৪০০-র বেশি মিসাইল ছুড়েছে, যা প্রতিহত করতে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো সক্রিয় করতে হয়েছে।
ইরানে হামলার জন্য ইসরায়েলের F-35 যুদ্ধবিমানগুলো প্রায় এক হাজার মাইল উড়ছে। এই যুদ্ধবিমানগুলো উড়ানের জন্য প্রতি ঘণ্টায় ১০ হাজার ডলার খরচ হয়। এছাড়াও JDAM এবং MK84 বোমার জন্য আলাদা করে বিপুল অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদদের অনুমান, ইরানের সঙ্গে এই সংঘাত একমাস ধরে জারি থাকলে ইসরায়েলের প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার খরচ হতে পারে। এই বিপুল ব্যয়ের কারণে সংঘাত দ্রুত শেষ করার জন্য নেতানিয়াহু সরকারের উপর চাপ বাড়ছে।
এদিকে, ইঞ্জিনিয়াররা বলছেন যে ইরানের মিসাইল হামলায় যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা সংস্কারের জন্য ৪০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ হবে। কারণ, কয়েকশো বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৫ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যেতে হয়েছে। ইসরায়েলের সবচেয়ে বড় তেল শোধনাগারও বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, যা অর্থনীতির উপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে।
ব্যাঙ্ক অব ইসরায়েলের প্রাক্তন গভর্নর কারনিট ফ্লুগ ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জানিয়েছেন, এই সংঘাতের সময় অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর মতে, সংঘাতের সময়কাল অর্থনীতির উপর ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলবে। এক সপ্তাহ সংঘাত আর এক মাস সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে।