হাত-পা বাঁধা অবস্থায় BJP নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার, ফের চাঞ্চল্যকর ঘটনা বাংলায়

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য জুড়ে রাজনৈতিক হিংসা নতুন করে শিরোনামে। পশ্চিমবঙ্গের হুগলি ও বসিরহাট, দুই পৃথক ঘটনায় রাজনৈতিক কর্মী খুনের ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে হুগলিতে এক বিজেপি নেতার হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়েছে, অন্যদিকে বসিরহাটের জনবহুল বাজারে গুলি করে ও কুপিয়ে খুন করা হয়েছে এক তৃণমূল কর্মীকে। উভয় ঘটনাই নির্বাচনের আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

হুগলির গোঘাটে স্থানীয় বিজেপি সংখ্যালঘু সেলের মণ্ডল সভাপতি শেখ বাকিবুল্লার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। শনিবার সকালে নিজ বাড়ির দোতলার বারান্দায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় তাঁর ঝুলন্ত দেহ দেখতে পান স্ত্রী। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব এবং নিহতের পরিবারের অভিযোগ, এটি নিছক আত্মহত্যা নয়, বরং রাজনৈতিক শত্রুতার জেরেই পরিকল্পিত খুন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পুরশুড়ার বিজেপি বিধায়ক বিমান ঘোষ। তিনি অভিযোগ করেন, “বাকিবুল্লা এলাকার জনপ্রিয় সংখ্যালঘু মুখ ছিল। ফলে এই খুনের পিছনে রাজনৈতিক চক্রান্ত থাকতে পারে।” পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, রাতেই দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকে বাকিবুল্লাকে খুন করে দেহ ঝুলিয়ে দিয়ে গেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না আসা পর্যন্ত তদন্তকারীরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে রাজি নন। স্থানীয়দের একাংশ পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এবং দেহ উদ্ধারে বাধা দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় তৃণমূলের তরফেও যথাযথ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।

এদিকে, বসিরহাটের গোটরা পঞ্চায়েতের ঘোনা থানা এলাকায় ভিড়ে ঠাসা বাজারের মধ্যে এক তৃণমূল কর্মীকে গুলি করে ও কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। নিহত তৃণমূল কর্মী আনার হোসেন গাজির (২৪) উপর চা দোকানের সামনে বাইকে বসে চা পানের সময় হামলা চালায় ৫ থেকে ৬ জন দুষ্কৃতী। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তাকে লক্ষ্য করে তিন রাউন্ড গুলি চালানো হয়। শুধু তাই নয়, মৃত্যু নিশ্চিত করতে ধারালো অস্ত্র দিয়েও কোপানো হয় আনার হোসেন গাজিকে। ভরা বাজারের মধ্যে এমন বেপরোয়া হামলায় স্থানীয়দের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

লোকসভা নির্বাচন আসন্ন, এই পরিস্থিতিতে পর পর রাজনৈতিক কর্মীর খুনের ঘটনা রাজ্যের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। শাসক ও বিরোধী উভয় শিবির থেকেই দোষীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। এই ঘটনাগুলি আসন্ন নির্বাচনের আগে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক সংঘাতের তীব্রতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। রাজ্য জুড়ে এই ঘটনাগুলির জেরে রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বাড়বে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।