টানা বৃষ্টি, ডিভিসির জল ছাড়ার ফলে বাড়ছে বিপদ, জেলাশাসকদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক নবান্নর

বর্ষা পুরোদমে তার দখল কায়েম করেছে বাংলার আকাশে-বাতাসে। গত কয়েকদিনের লাগাতার বৃষ্টিপাতে রাজ্যের একাধিক নদী বিপজ্জনকভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছে। পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটাচ্ছে ডিভিসি-র লাগাতার জল ছাড়ার সিদ্ধান্ত। ফলে রাজ্যের বেশ কয়েকটি জেলায় দেখা দিচ্ছে বন্যার সম্ভাবনা। এই পরিস্থিতিতে কোনও ঝুঁকি না নিয়ে জরুরি প্রস্তুতি নিতে তৎপর হয়েছে রাজ্য প্রশাসন।
এই প্রেক্ষিতে রাজ্যের মুখ্যসচিব পশ্চিমাঞ্চলের একাধিক জেলার জেলাশাসকদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক করেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—সময় থাকতেই সতর্ক হতে হবে, কারণ অবস্থা নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আগে প্রস্তুতি নেওয়াই একমাত্র উপায়।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নিম্নচাপ এবং মৌসুমী অক্ষরেখার সক্রিয়তার ফলে আগামী কয়েকদিন আরও বৃষ্টিপাত চলবে। ইতিমধ্যেই মাইথন থেকে প্রায় ২০ হাজার কিউসেক এবং পাঞ্চেত থেকে ১৭ হাজার কিউসেক জল ছাড়তে শুরু করেছে ডিভিসি। ফলে একাধিক নিম্নাঞ্চলে জল ঢুকে পড়েছে। উপকূলবর্তী ও নদীতীরবর্তী অঞ্চলের মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রশাসন।
টানা বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়েছে আসানসোলের একাধিক এলাকা। বরাকর নদীর পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ঝনপুরা, কবরস্থান মহল্লা ও ফাঁড়িরোড-সহ বিভিন্ন জায়গায় আচমকা জল ঢুকে পড়ায় বহু পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। এর মধ্যেই ঘটেছে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা—জামুরিয়ার বাকশিমুলিয়ায় একটি কাঁচা বাড়ির দেওয়াল ধসে মৃত্যু হয়েছে ৬৭ বছরের উমাপদ মণ্ডলের। বৃষ্টির সময় বাড়ির ভিতরে থাকাকালীন দেওয়ালের নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই গুরুতর জখম হন তিনি। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, বাঁকুড়ার জয়পুর ব্লকে হঠাৎ দ্বারকেশ্বর নদীর জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় আটকে পড়েছে প্রায় ১০-১২টি ট্রাক। বিপাকে পড়েছেন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে প্রশাসন তৎক্ষণাৎ উদ্ধারকাজ শুরু করেছে এবং কয়েকটি ট্রাক ইতিমধ্যেই সরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
নবান্ন পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে আগেই সতর্ক হয়েছে। জেলা প্রশাসনকে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, নদী তীরবর্তী ও জলবন্দি এলাকাগুলি ঘুরে দেখার এবং প্রয়োজনে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখার। এখনই ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি যে আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে, সে ব্যাপারে আর কোনও সন্দেহ নেই।