ইরানে শিগ্রই হামলা চালাবে আমেরিকা?-যুদ্ধে সায় দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প

মধ্যপ্রাচ্য এখন বারুদের স্তূপে পরিণত! ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলমান ৭ দিনের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের মধ্যেই নতুন করে জল্পনা তুঙ্গে যে, তেহরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে চলেছে পরাশক্তি আমেরিকা। ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর বিস্ফোরক রিপোর্ট অনুযায়ী, আমেরিকান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নাকি ইতিমধ্যেই ইরানে সামরিক অভিযানের বিষয়ে ‘সবুজ সংকেত’ দিয়েছেন, যদিও আনুষ্ঠানিক নির্দেশ এখনও জারি হয়নি। এই মুহূর্তে বিশ্ববাসীর চোখ মধ্যপ্রাচ্যের দিকে, কারণ যেকোনও মুহূর্তে শুরু হতে পারে এক ভয়াবহ যুদ্ধ, যা আঞ্চলিক শান্তিকে চিরতরে বিনষ্ট করতে পারে।
সূত্রের খবর, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির কাজ থামাচ্ছে কিনা, তার জন্য আপাতত কিছুটা অপেক্ষা করছে ওয়াশিংটন। যদি ইরান এই কাজ থেকে বিরত না হয়, তবেই আমেরিকা ‘কঠোর পদক্ষেপের’ পথে হাঁটবে। ব্লুমবার্গের অন্য এক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, চলতি সপ্তাহান্তেই ইরানে হামলা চালাতে পারে আমেরিকা, এবং ট্রাম্প প্রশাসন সেই মতন প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। এই খবর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনেই গতকালই ইজরায়েলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এর জবাবে ট্রাম্প খামেনেইকে ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ’ করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন এবং হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে, তিনি জানেন খামেনেই কোথায় লুকিয়ে রয়েছেন। পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়ে খামেনেই ঘোষণা করেছেন, ইরান কারো কাছে মাথা নত করবে না এবং আমেরিকার সেনাবাহিনীর যেকোনো হস্তক্ষেপে ‘অপূরণীয় ক্ষতি’ হবে। দুই নেতার এই বাক্যুদ্ধ এখন এক মারাত্মক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে।
আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে প্রায় ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট ধরে ট্রাম্প তার নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৈঠকেই যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
এদিকে, ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সংঘর্ষের সপ্তম দিনে এসে মৃতের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। তেহরান খালি করার হুঁশিয়ারি দিয়ে ট্রাম্প জি-৭ বৈঠক থেকে একদিন আগেই ফিরে এসেছিলেন। এই পরিস্থিতিতে সিবিএস নিউজ জানিয়েছে, ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলি ধ্বংস করতে ইজরায়েলের সঙ্গে যোগ দেওয়ার কথা ভাবছেন ট্রাম্প। অ্যাক্সিওস সূত্রে খবর, ইজরায়েলও মনে করছে যে, ইরানের পরমাণু ভান্ডার ধ্বংস করতে আগামী দিনে আমেরিকা তাদের সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দিতে পারে।
সর্বশেষ খবর, ইরানে হামলা চালানোর ব্যাপারে ট্রাম্পের ‘সবুজ সংকেত’ বিশ্বজুড়ে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদি আমেরিকা ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলা চালায়, তবে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে এবং এর প্রতিক্রিয়া বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। প্রশ্ন হলো, শেষ পর্যন্ত কি সামরিক পথেই সমাধান হবে, নাকি কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার কোনো উপায় মিলবে? সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।