মধ্যবিত্তের স্বস্তি? বেসরকারি হাসপাতালের খরচ কমাতে বিল রাজ্য সরকারের

বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসার আকাশছোঁয়া খরচ নিয়ে মধ্যবিত্তের দীর্ঘদিনের অভিযোগের পাহাড়ে এবার কিছুটা হলেও স্বস্তির প্রলেপ দিতে চাইছে রাজ্য সরকার। সম্প্রতি বিধানসভায় পাশ হয়েছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিকাল এস্টাব্লিশমেন্টস অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৫’, যা প্যাকেজের বাইরে অতিরিক্ত খরচ আদায়ে রাশ টানার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। তবে এই পদক্ষেপ যেমন একদিকে প্রশংসিত হচ্ছে, তেমনই এর কার্যকারিতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।

প্যাকেজের বাইরে অতিরিক্ত নয়: স্বচ্ছতার নতুন দিশা?
রাজ্য সরকারের এই নতুন বিলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, বেসরকারি হাসপাতালগুলি রোগীকে ভর্তির সময় যে প্যাকেজ প্রদান করবে, পরবর্তীতে তার বাইরে এক পয়সাও অতিরিক্ত নিতে পারবে না। চিকিৎসার সমস্ত খরচ হাসপাতালের এমন স্থানে প্রদর্শন করতে হবে, যা জনসাধারণের জন্য দৃশ্যমান।

বিলে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, প্যাকেজে প্রস্তাবিত খরচের তুলনায় যদি কোনো কারণে চার্জ বৃদ্ধি পায়, তবে তার কত শতাংশ বেশি নেওয়া যাবে, তা স্বাস্থ্য দফতর নির্ধারণ করবে। এই খরচ বৃদ্ধির বিষয়টি স্বাস্থ্য দফতরকে জানাতে হবে এবং রোগীর পরিজনদেরও প্রতি ২৪ ঘণ্টা অন্তর তা অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কেন এই বিল? দীর্ঘদিনের অভিযোগের সমাধান?
বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার খরচ প্রতিনিয়ত মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। প্যাকেজের বাইরে ‘অতিরিক্ত খরচ’ নামে যে বিপুল অঙ্কের বিল ধরানো হয়, তা সাধারণ মানুষের জন্য দুঃস্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অভিযোগের মুখে পড়েই এই সংশোধনী বিল আনা হয়েছে বলে জানা গেছে, যার লক্ষ্য বেসরকারি হাসপাতালের পরিষেবা মধ্যবিত্তের জন্য আরও সহজলভ্য ও স্বচ্ছ করে তোলা।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী আশাবাদী, বিরোধী শিবির সন্দিহান
রাজ্যের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এই বিলকে সাধারণ মানুষের জন্য উপকারী বলে মন্তব্য করেছেন। তাঁর মতে, “রোগীকে যতটা বিল করা হচ্ছে, তা রোগী জানবে। অর্থাৎ দুটো ইঞ্জেকশন দিয়ে ২০টি ইঞ্জেকশনের বিল করলে তা বুঝতে পারবে রোগী। এই স্বচ্ছতার জন্যই বিল আনা হয়েছে।”

তবে, এই বিল নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্কও। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিলটিকে ‘ত্রুটিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়েছেন। তাঁর অভিযোগ, “এরপর ব্ল্যাকমেল করে বেসরকারি হাসপাতাল, নার্সিং হোম থেকে টাকা তুলবে তৃণমূল।” শুভেন্দু অধিকারীর মূল প্রশ্ন হলো, যদি নির্দিষ্ট প্যাকেজের চিকিৎসা পাওয়ার পর রোগীর স্বাস্থ্যের অবনতি হয় এবং অতিরিক্ত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, তবে সেক্ষেত্রে কী হবে – বিলে তা স্পষ্ট করে লেখা নেই।

ভবিষ্যতের দিকে নজর: কার্যকর হবে কি এই নতুন আইন?
নতুন এই বিলটি কি সত্যিই বেসরকারি হাসপাতালের অতিরিক্ত বিল আদায়ের লাগাম টানতে পারবে, নাকি এর ফাঁকফোকর ব্যবহার করে অন্য কোনো উপায়ে খরচ চাপানো হবে – তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। সরকার যদিও স্বচ্ছতা আনার কথা বলছে, বিরোধীদের উত্থাপিত প্রশ্নগুলিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। এখন দেখার বিষয়, এই নতুন আইন কতটা কার্যকর হয় এবং মধ্যবিত্তের স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে পারে।