মুনির-ট্রাম্প একসঙ্গে লাঞ্চ, ভারতের চরম শত্রুর সঙ্গে এক টেবিলে কেন আমেরিকা?

এক ব্যতিক্রমী এবং অত্যন্ত গোপনীয় মধ্যাহ্নভোজের জন্য আজ হোয়াইট হাউসের ক্যাবিনেট রুমে মিলিত হতে চলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির। বেলা ১টায় (স্থানীয় সময় রাত ১০:৩০) নির্ধারিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠক ঘিরে কোনো সংবাদমাধ্যমকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না, যা কূটনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনার জন্ম দিয়েছে।
পাঁচ দিনের সফরে রবিবার ওয়াশিংটনে পৌঁছানো জেনারেল মুনিরের মূল লক্ষ্য আমেরিকার সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্ককে নতুন করে জোরদার করা। যদিও এই সফরকে প্রাথমিকভাবে দ্বিপাক্ষিক বলে উল্লেখ করা হচ্ছে এবং ১৪ জুন মার্কিন সেনাবাহিনীর ২৫০তম বার্ষিকী উদযাপনের সঙ্গে এর কোনো আনুষ্ঠানিক যোগসূত্র নেই বলে ডন-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এর আগে গুঞ্জন ছিল যে, মুনির মার্কিন সেনা দিবসের প্যারেডে অংশ নেবেন, তবে হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে এই দাবিকে “মিথ্যা” আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে যে, কোনো বিদেশী সামরিক নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।
ট্রাম্পের সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজ ছাড়াও, মার্কিন সফরে মুনির বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এই উচ্চপর্যায়ের আলোচনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সন্ত্রাসবাদ বিরোধী সহযোগিতা এবং বৃহত্তর নিরাপত্তার বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যদিও আধিকারিকেরা কোনো নির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি নিশ্চিত করেননি।
তবে, মুনিরের এই সফর ঘিরে ওয়াশিংটনে পাক দূতাবাসের সামনে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। আমেরিকার প্রবাসী পাকিস্তানি নাগরিকরা ‘ইসলামাবাদের কসাই’ স্লোগান দিয়ে এবং প্ল্যাকার্ড হাতে মুনির-বিরোধী বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন। বিক্ষোভকারীরা তাকে ‘গিদাদ, গিদাদ, গিদাদ’ (শিয়াল, শিয়াল, শিয়াল) বলেও চিৎকার করেন, যা পাকিস্তানে তার সমালোচনামূলক ভাবমূর্তির ইঙ্গিত দেয়।
ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষ এবং মার্কিন ট্রেড নীতির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলির প্রেক্ষাপটে জেনারেল আসিম মুনিরের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রুদ্ধদ্বার এই বৈঠক এবং তার পরবর্তী ফলাফল আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই গোপন মধ্যাহ্নভোজ কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে মজবুত করার উদ্দেশ্যেই নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আমেরিকার নতুন করে ভাবনাচিন্তার ইঙ্গিতও বহন করছে।