“হঠাৎ জেগে উঠেছে আগ্নেয়গিরি”-AIR INDIA-র বিমানের মাঝ আকাশ থেকেই U-টার্ন

একটার পর একটা ঘটনা। যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমেই বাড়ছে উদ্বেগ। যান্ত্রিক ত্রুটির জেরে একের পর এক বাতিল হওয়া উড়ান এবং ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার মাঝ আকাশ থেকে ফিরতে হলো এয়ার ইন্ডিয়ার বালিগামী বিমানকে। ইন্দোনেশিয়ায় আগ্নেয়গিরির আকস্মিক অগ্ন্যুৎপাতের ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের মাউন্ট লেওতোবি লাকি লাকি আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতে আকাশে ছাইয়ের ঘন কুণ্ডলী ছড়িয়ে পড়ে। এর জেরে বালি বিমানবন্দরের কাছে আকাশপথে বিমান চলাচলে গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। ফলস্বরূপ, দিল্লী থেকে বালির উদ্দেশে রওনা দেওয়া এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানকে মাঝপথ থেকেই ফিরিয়ে আনতে বাধ্য হন পাইলটরা। সূত্র মারফত জানা গেছে, বিমানটি নিরাপদে দিল্লীতে অবতরণ করেছে এবং সমস্ত যাত্রী সুরক্ষিত রয়েছেন। যাত্রীদের টিকিটের অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ।

তবে, এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটলো যখন এয়ার ইন্ডিয়া এমনিতেই যাত্রী সুরক্ষা নিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে। গত ১২ই জুন গুজরাটের আহমেদাবাদের মেঘানিনগরে এয়ার ইন্ডিয়ার লন্ডনগামী একটি বিমান টেক অফের পরপরই জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ভেঙে পড়ে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানি সহ ২৪২ জন আরোহীর মধ্যে রমেশ বিশ্বাসকুমার ব্যতীত সকলেরই মৃত্যু হয়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং টাটা গোষ্ঠী নিহতদের পরিবারকে ১ কোটি টাকা আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করে। এই দুর্ঘটনার পর থেকেই বিমান ভ্রমণ ঘিরে এক গভীর আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।

আহমেদাবাদের ঘটনার পর থেকেই এয়ার ইন্ডিয়ার একের পর এক বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ার খবর সামনে এসেছে, যার জেরে একাধিক উড়ান বাতিল করতে হয়েছে। যে রুটে আহমেদাবাদের বিমানটি ভেঙে পড়েছিল, সেই একই রুটে লন্ডনগামী অন্য একটি এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়ায় সেটি বাতিল করা হয়। এছাড়া সানফ্রান্সিসকো-মুম্বাই ভায়া কলকাতা রুটে এবং হংকং-দিল্লীগামী ড্রিমলাইনার উড়ানেও মাঝ আকাশে যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা ঘটেছে। বারবার এই ধরনের ঘটনা ঘটায় এয়ার ইন্ডিয়ার রক্ষণাবেক্ষণ এবং যাত্রী সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে নানা মহলে গুরুতর প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।

এই পরিস্থিতিতে আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের কারণে বালি থেকে উড়ান ফেরত আসায় এয়ার ইন্ডিয়ার সংকট আরও গভীর হলো। একদিকে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, অন্যদিকে লাগাতার যান্ত্রিক ত্রুটির ঘটনা – সব মিলিয়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ বিমান পরিষেবা সংস্থার ভবিষ্যৎ এবং যাত্রীদের আস্থা এক বড় চ্যালেঞ্জের মুখে এসে দাঁড়িয়েছে।