২৬,০০০ চাকরি বাতিল, এসএসসি-তে নতুন ঢেউ! বড় সিদ্ধান্ত মন্ত্রিসভার

২৬,০০০ শিক্ষকের চাকরি বাতিলের সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর থেকেই তীব্র অস্বস্তিতে রয়েছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC)। রাজ্যজুড়ে আন্দোলন, প্রতিবাদের আবহেই শীর্ষ আদালতের নির্দেশ মেনে নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছে। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই এবার এসএসসি (SSC) নিয়ে এক বড় সিদ্ধান্ত নিল রাজ্য মন্ত্রিসভা। কমিশনে তৈরি হচ্ছে দুটি নতুন পদ, যা ঘিরে শিক্ষামহলে নতুন করে কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে।

এসএসসি-তে নতুন ঢেউ: দু’জন ডেপুটি সেক্রেটারি
সোমবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশে বিধানসভায় এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসেন রাজ্যের বিভিন্ন দপ্তরের মন্ত্রীরা। সেখানেই একাধিক প্রস্তাবের মধ্যে এসএসসি-তে দুটি নতুন পদ সৃষ্টির বিষয়টি অনুমোদন পায়। সূত্র মারফৎ জানা যাচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গ কেন্দ্রীয় স্কুল সার্ভিস কমিশনে দুটি ডেপুটি সেক্রেটারি বা উপ সচিবের পদ তৈরি এবং সেগুলিতে নিয়োগের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। মন্ত্রিসভার ছাড়পত্র মেলায় অচিরেই এই পদগুলিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শিক্ষামহল মনে করছে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তাতে গতি আনতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এপ্রিল মাসে ২০১৬ সালের এসএসসির সম্পূর্ণ প্যানেল বাতিলের পাশাপাশি নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশ মেনেই গত ৩০ মে এসএসসি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এখন এই নতুন পদগুলি সেই প্রক্রিয়াকে আরও মসৃণ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খেলাধুলা ও উদ্যোগের মেলবন্ধন: ‘নেতাজি সুভাষ ইউনিভার্সিটি ফর স্পোর্টস অ্যান্ড অন্ত্রেপ্রেনিওরশিপ’
এসএসসি সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি, রাজ্য মন্ত্রিসভা এদিন আরও একটি যুগান্তকারী প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। রাজ্যে খেলাধুলাকে অধিক গুরুত্ব দিতে এবং নতুন উদ্যোগপতি তৈরিতে বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। সেই লক্ষ্যেই তৈরি হচ্ছে একটি সম্পূর্ণ নতুন বিশ্ববিদ্যালয়: ‘নেতাজি সুভাষ ইউনিভার্সিটি ফর স্পোর্টস অ্যান্ড অন্ত্রেপ্রেনিওরশিপ’।

এদিন মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের প্রস্তাবে অনুমোদন দেওয়া হয়। শীঘ্রই এই বিষয়ে বিধানসভায় একটি বিল আনা হবে বলে জানা গেছে। এই নতুন বিশ্ববিদ্যালয় রাজ্যের ক্রীড়া ক্ষেত্রকে এক নতুন দিশা দেখাবে এবং খেলাধুলার পাশাপাশি যুবকদের মধ্যে উদ্যোগপতি হওয়ার মানসিকতাও গড়ে তুলবে বলে মনে করা হচ্ছে।

একদিকে আইনি জটিলতা এবং চাকরি বাতিলের মতো বড়সড় চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড়িয়ে এসএসসি, অন্যদিকে নতুন করে গতি আনার চেষ্টা। এরই মধ্যে ক্রীড়া ও উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার এই সিদ্ধান্ত, সব মিলিয়ে রাজ্য সরকারের নয়া পদক্ষেপগুলি আগামী দিনে কী প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।