খামেনেইকে সরাসরি হত্যার হুমকি নেতানিয়াহুর! পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা

ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে চলা সংঘাত ক্রমশ ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। চারদিন ধরে অবিরাম হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই গত রবিবার ইজরায়েলি হামলায় ইরানের ‘রেভোলিউশনারি গার্ড’-এর গোয়েন্দা প্রধান মহম্মদ কাজেমের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর মুখে যে হুঁশিয়ারি শোনা গেল, তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নেতানিয়াহু সরাসরি ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লা আলি খামেনেইকে হত্যার কথা বলেছেন। সূত্রের খবর, বর্তমানে খামেনেই কোনো এক অজ্ঞাত স্থানে একটি বাঙ্কারের ভিতর লুকিয়ে আছেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘এবিসি’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেছেন, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা খামেনেইকে হত্যা করা হলে এই সংঘাত আর বাড়বে না, বরং সব সংঘাতের শেষ হবে।”
তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে ইজরায়েল কি সত্যিই খামেনেইকে নিশানা করতে পারে? এর জবাবে নেতানিয়াহু দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “যা করতে হবে, আমরা তা করছি।” নেতানিয়াহুর দাবি, খামেনেই হলেন ইরানের উগ্রপন্থা ও সন্ত্রাসবাদের মূল উৎস। যদি তাকে সরানো হয়, তাহলে সংঘাত বন্ধ হয়ে যাবে।
নেতানিয়াহুর এমন বক্তব্যের পর রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, ইজরায়েল কি সত্যিই খামেনেইকে নিশানা করতে পারবে? যদি এমন ঘটনা ঘটে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যে এক বড় আকারের যুদ্ধের সূচনা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এর ফলস্বরূপ আমেরিকা, রাশিয়া এবং অন্যান্য মুসলিম দেশও এই সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, খামেনেই ইরানের রাজনীতি এবং সেনাবাহিনীর সর্বোচ্চ নেতা। তাঁর উপর আক্রমণ হলে তা পুরো ইরানের শাসনব্যবস্থার উপর সরাসরি আক্রমণ হিসেবে গণ্য হবে। ফলে, নেতানিয়াহুর এই মন্তব্যকে ইরান সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবে নিতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশ্ববাসী এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।