লঞ্চ থেকে এক লাফে নিজের ডেরায়! খাঁচা বন্দী বাঘ ফিরল জঙ্গলে

টানা কয়েক ঘণ্টার উদ্বেগ আর আতঙ্কের পর অবশেষে স্বস্তি ফিরল কুলতলীতে। লোকালয়ে ঢুকে পড়া একটি বাঘকে বনদফতর সফলভাবে খাঁচা বন্দী করে তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে সুন্দরবনের চামতা জঙ্গলে ফিরিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনায় এলাকাবাসী ও বনদফতরের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল।

চাষের জমিতে পায়ের ছাপ, আতঙ্ক ছড়াল দেউলবাড়ীতে
সোমবার সকালে কুলতলী ব্লকের অন্তর্গত দেউলবাড়ী এলাকায় চাষের জমিতে একটি বাঘের পায়ের ছাপ দেখতে পান এলাকাবাসীরা। মুহূর্তের মধ্যে লোকালয়ে বাঘ ঢোকার খবর বিদ্যুৎ গতিতে ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে বাসিন্দারা নিজেদের বাড়ির দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরবন্দী হয়ে পড়েন।

খবর পেয়ে কুলতলী বন বিভাগের বনকর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। বাঘের পায়ের ছাপ অনুসরণ করে তারা তার গতিপথ জানার চেষ্টা করেন। এলাকাবাসীর সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে বনদফতরের পক্ষ থেকে গোটা এলাকা জাল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়। এরপর বাঘটিকে ধরার জন্য ছাগলের টোপ দিয়ে বেশ কয়েকটি খাঁচা পাতা হয়। গভীর রাতে অবশেষে বাঘটি খাঁচা বন্দী হয়।

শারীরিক পরীক্ষা শেষে লঞ্চে করে জঙ্গলে প্রত্যাবর্তন
বনদফতরের কর্মীরা বাঘটিকে উদ্ধার করে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঝড়খালি এলাকায় নিয়ে যান। পরীক্ষা শেষে বাঘটিকে পুনরায় সুন্দরবনের চামতা জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লঞ্চে করে বাঘটিকে জঙ্গলের কাছাকাছি নিয়ে যাওয়া হয়। খাঁচার গেট খুলে দিতেই লম্বা এক লাফে বাঘটি নদীর জলে পড়ে যায় এবং দ্রুত সাঁতার কেটে জঙ্গলের গভীরে প্রবেশ করে।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা মুখ্য বন বিভাগীয় আধিকারিক (ডিএফপি) নিশা গোস্বামী জানান, “গতকাল সকালে কুলতলী এলাকার দেউলবাড়ীতে বনদফতরের কর্মীরা খবর পায় যে এলাকায় একটি বাঘের পায়ের ছাপ দেখা গেছে। গভীর রাতে বাঘটি খাঁচা বন্দী হয়। আজ সকালে বাঘটিকে শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর সুন্দরবনের চামতা জঙ্গলে পুনরায় ছেড়ে দেওয়া হয়।” তিনি আরও বলেন, সুন্দরবনের জঙ্গল লাগোয়া কুলতলী ব্লক হওয়ায় প্রায়শই জঙ্গল থেকে বাঘ খাবারের সন্ধানে কিংবা অন্য কোনো কারণে নদী সাঁতরে লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।

এই ঘটনা আবারও সুন্দরবনের লোকালয়গুলিতে বাঘের আনাগোনার সমস্যাকে তুলে ধরল, যা বনদফতরের জন্য একটি চলমান চ্যালেঞ্জ। তবে বাঘটিকে নিরাপদে জঙ্গলে ফিরিয়ে দেওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে কুলতলীর মানুষ।