অলৌকিক বেঁচে ফেরা! স্ত্রীর কথায় AIR ইন্ডিয়ার টিকিট বাতিল, এখনও আতঙ্কে কাঁপছেন চিকিৎসক

১২ জুনের লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের ভয়াবহ বিপর্যয়। ২৫০ জনেরও বেশি যাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু। কিন্তু এই মৃত্যুর মুখ থেকে অলৌকিকভাবে ফিরে এসেছেন গুজরাটের চিকিৎসক উমাং প্যাটেল। সংবাদমাধ্যমে তিনি নিজেই জানিয়েছেন, শুধুমাত্র স্ত্রীর এক অনুরোধই তাকে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা থেকে বাঁচিয়ে দিয়েছে। সেই দিনটি ছিল তার জীবনের এক নতুন শুরু।

স্ত্রীর নিষেধ, জীবনের বরদান
গত পাঁচ বছর ধরে কর্মসূত্রে লন্ডনে বসবাসকারী উমাং প্যাটেল, তার স্ত্রী, সন্তান এবং বাবা-মাকে নিয়ে গত ২৪ মে দেশে ফিরেছিলেন। তাদের বাড়ি গুজরাটের মহিসাগরে। ১২ জুন এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ বিমানে চেপে তার লন্ডনে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু নিয়তির এক অদ্ভুত খেলায়, ১০ জুন তিনি সেই টিকিট বাতিল করে দেন।

চিকিৎসক উমাং প্যাটেল সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত মাসে দেশে ফেরার পর তার বাবার স্ট্রোক হয়। এই কারণে ২ জুনের লন্ডনে ফেরার টিকিট বাতিল করতে হয়। এরপর ১২ জুন ফের লন্ডন যাত্রা ঠিক হয়। কিন্তু ৯ জুন স্ত্রীকে বাপের বাড়িতে ছেড়ে আসতে গিয়ে তিনি নিজেই তীব্র জ্বরে আক্রান্ত হন। এমন জ্বর যে বিছানা ছেড়ে ওঠার ক্ষমতা ছিল না তার। এই পরিস্থিতিতেই তার স্ত্রী তাকে যাত্রা বাতিল করতে এবং টিকিট বাতিল করার পরামর্শ দেন। স্ত্রীর কথা শুনেই তিনি ১০ জুন টিকিট বাতিল করেন। ঠিক দু’দিন পর, ১২ জুন, সেই বিমানটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।

মৃত্যুর কোলে ২৫০ প্রাণ, বেঁচে ফিরলেন একজন
সেই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় বিমানে থাকা ২৪১ জন যাত্রীরই মৃত্যু হয়। কেবল একজন যাত্রী অলৌকিকভাবে বেঁচে ফিরেছেন, যার পরিচয় এখনও সম্পূর্ণ স্পষ্ট নয়। এই পরিসংখ্যানের মধ্যে, উমাং প্যাটেলের স্ত্রীর এক ছোট সিদ্ধান্তই তাকে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেছে, যা নিছকই কাকতালীয় নয়, যেন বিধাতারই এক ইঙ্গিত।

এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, জীবনের প্রতিটি ক্ষুদ্র সিদ্ধান্ত কতটা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে এবং ভাগ্যের চাকা কখন কোন দিকে ঘোরে, তা বোঝা দুষ্কর। উমাং প্যাটেলের বেঁচে ফেরার গল্প এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে, যা আতঙ্ক ও কষ্টের মাঝে এক ঝলক আশার আলো নিয়ে এসেছে।