GOLD: সোনার দাম বাজারে এখন বেশ চড়া, জেনেনিন এখন গয়না কেনা কি ঠিক হবে?

পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইসরায়েলের সংঘাতের উত্তাপ শুধু ভূ-রাজনৈতিক ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি প্রভাব ফেলছে বিশ্ব অর্থনীতিতে, বিশেষ করে সোনার বাজারে। যুদ্ধ পরিস্থিতি যত অস্থির হচ্ছে, হলুদ ধাতুর দাম ততই লাফিয়ে বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারের পাশাপাশি সোমবার ভারতীয় ঘরোয়া বাজারেও সোনার দাম এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা মধ্যবিত্তের কপালে ফেলেছে গভীর চিন্তার ভাঁজ।
সোমবার বাজার খোলার পরই সোনার দামের পারদ ঊর্ধ্বমুখী হয়। মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে (MCX) প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ছুঁয়েছে ১ লক্ষ ১ হাজার ৭৮ টাকা। এর আগে শনিবারই কর বাদে পাকা সোনার প্রতি ১০ গ্রামের দাম ১ লক্ষ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছিল, যা ছিল এক মাইলফলক। এবার সোমবার সেই রেকর্ডও ভেঙে গেল। একই সঙ্গে, রুপোর দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা এই লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে পশ্চিম এশিয়ায় ইরান ও ইসরায়েলের চলমান সংঘাতকেই দায়ী করছেন। তাঁদের মতে, এই সংঘাতের জেরে বিশ্ব বাণিজ্যের পরিস্থিতি অস্থির হয়ে উঠেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে অশোধিত জ্বালানি তেলের দামে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার সাথে সাথেই সোনার দামেও নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে, কারণ অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময়ে সোনাকেই নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
হলুদ ধাতুর এই আকাশছোঁয়া দাম নিশ্চিতভাবেই মধ্যবিত্ত পরিবারের বাজেটকে প্রভাবিত করবে। যারা গয়না বা সঞ্চয়ের উদ্দেশ্যে সোনা কিনতে চাইছেন, তাদের জন্য এই দাম রীতিমতো উদ্বেগজনক। এমনকি, সোনায় লগ্নিকারীরাও দাম দেখে দ্বিধায় পড়েছেন, কারণ এত উচ্চ মূল্যে নতুন করে বিনিয়োগ করা ঝুঁকির মনে হচ্ছে।
বাজার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই সপ্তাহে সোনার দাম কমার সম্ভাবনা খুবই কম। পৃথিবীফিনমার্টের বিশেষজ্ঞ মনোজ জৈন বলেছেন, “আমাদের মনে হচ্ছে এ সপ্তাহে সোনা ও রুপোর দাম অস্থিরতা বজায় থাকবে। যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত খবর না আসা পর্যন্ত এই দুই ধাতুর শর্ট সেলিং না করাই বুদ্ধিমানের কাজ।” তিনি খুচরো সোনা বা সোনার গহনা কেনার জন্য অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন, কারণ এই মুহূর্তে উচ্চ মূল্যে বিনিয়োগ ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সোনার দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন এক চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে, যেখানে যুদ্ধের ফলস্বরূপ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম থেকে শুরু করে বিনিয়োগ পর্যন্ত সবকিছুই প্রভাবিত হচ্ছে।