ISRLvsIRN: ইসরায়েলে আবারও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ইরানের, জেনেনিন যুদ্ধের সর্বশেষ পরিস্থিতি

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা আরও তীব্রতর। ইসরায়েলে আবারও ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান, যা দেশের শান্তি ও নিরাপত্তাকে ভয়াবহ সংকটের মুখে ঠেলে দিয়েছে। সোমবার (১৬ জুন) ভোরের এই হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত এবং ৬৭ জনেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুজালেম পোস্ট। ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ইসরায়েলের বহু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আঘাত হেনেছে।

সোমবার ভোরে যখন ইসরায়েলের অধিকাংশ মানুষ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন, তখনই ইরানের দিক থেকে ছুটে আসে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র। সারা দেশজুড়ে বেজে ওঠে সতর্কতামূলক সাইরেন, যা রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে দেয়। ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অংশে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং একাধিক এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানার খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলি স্বেচ্ছাসেবী মেডিকেল সংস্থা ইউনাইটেড হাটজালাহ জানিয়েছে, তারা কেন্দ্রীয় ইসরায়েলের তিনটি এলাকায় আহতদের চিকিৎসা দিয়েছে। আহতদের মধ্যে একজন ১০ বছর বয়সী শিশু রয়েছে, যার অবস্থা গুরুতর। পেতাহ টিকভা শহরের পৌর কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, শহরের একটি ভবনে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এছাড়া, ইসরায়েলি পুলিশ তেল আবিবের দুটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার খবর দিয়েছে, যা ইসরায়েলের বাণিজ্যিক প্রাণকেন্দ্রেও আঘাত হানার ইঙ্গিত দেয়।

চিকিৎসা ও উদ্ধার অভিযান, হুঁশিয়ারি জারি
ইসরায়েলি রেড ক্রস (এমডিএ) জানিয়েছে, তারা চারটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র পড়ার রিপোর্ট পেয়েছে এবং দ্রুত তাদের দলগুলোকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছে। তারা অন্তত ২৯ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়েছে, যার মধ্যে তিনজনের অবস্থা মাঝারি এবং বাকি ২৬ জন হালকা আহত। এছাড়াও, অনেকে প্রবল আতঙ্কজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন, তাঁদেরও কাউন্সেলিং ও চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আরও হতাহতের খোঁজে তল্লাশি অভিযান চলছে বলেও জানিয়েছে এমডিএ।

ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)-এর হোম ফ্রন্ট কমান্ড রবিবার রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যবর্তী সময়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ জারি করে, যা এই হামলার ভয়াবহতা নির্দেশ করে।

উত্তরে ড্রোন অনুপ্রবেশ ও হুথিদের হামলা: বহুমুখী আক্রমণের আশঙ্কা
ইসরায়েলের উত্তরের হাইফা শহরেও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম কান। একই সময়ে ইয়েমেন থেকে হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের ঘটনাও ঘটেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। কান জানায়, হুথি বিদ্রোহীরা একটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করলে উত্তর ইসরায়েলে সাইরেন বেজে ওঠে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পরপরই ইসরায়েলের উত্তরে, বিশেষ করে রোশ হানিক্রা এলাকায় ড্রোন অনুপ্রবেশের সাইরেনও বেজে ওঠে, যা ইসরায়েলের জন্য বহুমুখী আক্রমণের হুমকি বাড়িয়ে তুলেছে।

গোয়েন্দা সতর্কতা: সোশ্যাল মিডিয়ায় তথ্য প্রচারে নিষেধাজ্ঞা
এই হামলার পর ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জনসাধারণকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে, যেন তারা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সঠিক অবস্থান, ছবি বা ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ না করে। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, শত্রুপক্ষ এই তথ্যগুলো পর্যবেক্ষণ করে তাদের আক্রমণের সক্ষমতা উন্নত করতে পারে।

এদিকে, ইসরায়েলের উপকূলীয় অঞ্চলে যেসব স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে, সেসব স্থানে বিদেশি সংবাদমাধ্যম ছবি ও তথ্য সংগ্রহ করছে—এমন খবরে পুলিশ দ্রুত সাড়া দিয়েছে এবং এলাকায় তল্লাশি ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে জানিয়েছে জেরুজালেম পোস্ট।

এই হামলা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। ইসরায়েল এবং ইরানের মধ্যে সরাসরি সংঘাতের আশঙ্কা ক্রমশ বাড়ছে, যা সমগ্র বিশ্বের জন্য এক উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে।