সোনা পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার এয়ার ইন্ডিয়ার ক্রু, বিমান দুর্ঘটনার মাঝেই শুরু নয়া বিতর্ক

আহমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার (যার মৃতের সংখ্যা ২৭৯-এ পৌঁছেছে) রেশ যখন গোটা দেশকে শোকস্তব্ধ করে রেখেছে, ঠিক তখনই সামনে এলো আরও এক চাঞ্চল্যকর খবর। ডিরেক্টরেট অফ রেভিনিউ ইন্টেলিজেন্স (DRI) সোনা পাচারের অভিযোগে এয়ার ইন্ডিয়ার এক কেবিন ক্রুকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনা বিমান সংস্থাটির ভাবমূর্তির ওপর আরও একটি বড় আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে।
গতকাল শুক্রবার মুম্বাই বিমানবন্দর থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার ওই ক্রুকে গ্রেপ্তার করা হয়। DRI সূত্রে খবর, ধৃতের কাছ থেকে ১.৩৭ কিলোগ্রাম সোনা উদ্ধার হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১.৪১ কোটি টাকা। এই পাচারচক্রের মূল মাথাকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ, যা তদন্তে এক নতুন মোড় এনেছে।
রাজস্ব দপ্তর জানিয়েছে, অভিযুক্ত ক্রু এয়ার ইন্ডিয়ার AI116 বিমানে নিউইয়র্কের কেনেডি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট থেকে মুম্বাইয়ের ছত্রপতি শিবাজি মহারাজ বিমানবন্দরে এসেছিলেন। মুম্বাইতে অবতরণের পর নিয়মমাফিক তল্লাশি চলছিল। সেই সময় সন্দেহবশত তাকে আটক করা হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি সোনা পাচারের অভিযোগ স্বীকার করতে চাননি। তবে দীর্ঘ জিজ্ঞাসাবাদের পর তিনি ভেঙে পড়েন এবং নিজেই লুকিয়ে রাখা সোনার খোঁজ দেন।
প্রাথমিক তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, অভিযুক্ত ওই ক্রু এর আগেও একাধিকবার সোনা পাচার করেছেন। ঠিক কতবার এই কাজ করেছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গোয়েন্দারা জানতে পেরেছেন যে, এই চক্রের প্রধান একজন ভারতীয়। তিনিই বিমান সংস্থার ক্রুদের ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক সোনা পাচারের এই বৃহৎ কারবার চালাচ্ছিলেন। মূল চক্রীকে গ্রেপ্তারের পর এই মামলার তদন্ত আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। এই পাচারচক্রে আর কারা জড়িত, তাদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। এই ঘটনা এয়ার ইন্ডিয়ার মতো একটি রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থার জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তবে, এই পাচারকাণ্ড নিয়ে এখনও পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করা হয়নি। আহমেদাবাদের দুর্ঘটনার পর যখন সংস্থাটি চাপের মুখে, তখন এই ঘটনা তাদের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিল।