মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনা! ছিন্নভিন্ন হাত-পা-মাথা, উদ্ধার ৩১৯টি দেহাংশ, কতজনের মৃত্যু হয়েছে?

আহমেদাবাদের মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এয়ার ইন্ডিয়ার বি৭৮৭ বিমানটি মেঘানি নগরের বিজে মেডিকেল কলেজ হোস্টেলের ওপর ভেঙে পড়ার ঘটনায় শনিবার পর্যন্ত পাওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭৪। বিমানের ২৪২ জন যাত্রীর মধ্যে একজন বাদে প্রায় সবারই মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও, বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার স্থানে থাকা বহু সাধারণ মানুষও প্রাণ হারিয়েছেন।

বৃহস্পতিবারের এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় বিজে মেডিকেল কলেজ এবং এর আশপাশের এলাকায় অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। উদ্ধারকাজের দায়িত্বে থাকা স্থানীয় পুর প্রশাসন জানিয়েছে যে, তারা মোট ৩১৯টি দেহাংশ সরকারি হাসপাতালের হাতে তুলে দিয়েছে। এক্ষেত্রে একই ব্যক্তির বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া দেহের একাধিক অংশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

দুর্ঘটনার ভয়াবহতা এতটাই বেশি যে, নিহতদের দেহ এমনভাবে দগ্ধ হয়েছে যে চেনার উপায় নেই। এমনকি অনেকের দেহ থেকে হাত-পা আলাদা হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে দেহ শনাক্তকরণ একটি বিরাট চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন পর্যন্ত উদ্ধার হওয়া ২৭৪টি দেহের মধ্যে মাত্র আটটি দেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে এবং সেগুলি কফিনবন্দী করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

বাকি দেহগুলো চিহ্নিত করার জন্য ডিএনএ পরীক্ষার ওপরই ভরসা রাখতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। শুক্রবার রাত পর্যন্ত মোট নিখোঁজ বা নিহতদের পরিবারের ২১৯ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এই নমুনাগুলো পরীক্ষা করে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে।

উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। বিমানের বিশাল আকারের ধ্বংসাবশেষের নিচে আরও দেহ চাপা পড়ে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এই মুহূর্তে প্রশাসনের মূল লক্ষ্য হলো দ্রুততার সাথে উদ্ধারকাজ সম্পন্ন করা এবং বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে দেহগুলো শনাক্ত করে স্বজনদের হাতে তুলে দেওয়া।

আহমেদাবাদের এই মর্মান্তিক ঘটনায় দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। প্রশাসন এবং বিভিন্ন সংস্থা একসাথে কাজ করে চলেছে এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের মোকাবেলা করার জন্য।