“হোপ ইউ আর সেফ…”-বিমানে ওঠার আগে ফেসবুকে কী লিখেছিলেন Crew দীপক পাঠক?

আহমেদাবাদের আকাশ আজ এক ভয়াবহ ট্র্যাজেডির সাক্ষী রইল। লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং AI-171 বিমানটি সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে টেকঅফের পরই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার শিকার হলো। বিমানে থাকা পাইলট, ক্রু মেম্বার এবং যাত্রী মিলিয়ে মোট ২৪২ জনেরই বড় বিপদের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ক্রু মেম্বারদের তালিকায় রয়েছেন দীপক পাঠক, মৈথিলি পাটিল, মনীষা থাপা, ইরফান শেখ, সাইনিতা চক্রবর্তী-সহ মোট ১২ জন।

এই হৃদয়বিদারক ঘটনার মাঝেই সামনে এসেছে বিমানের ক্রু মেম্বার দীপক পাঠকের একটি ফেসবুক পোস্ট, যা গভীর বিষাদ ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। উড়ানের ঠিক আগে, দীপক তার ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন যে এটি তার ১১৪৩ নম্বর ফ্লাইট সফর, যার গন্তব্য আহমেদাবাদ থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দর। এই পোস্টটি এখন তার অগণিত শুভাকাঙ্ক্ষীদের জন্য এক ভয়াবহ স্মৃতিচিহ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিমান দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পরই দীপকের কমেন্ট বক্স উদ্বেগ বার্তায় ভরে ওঠে। “হোপ ইউ আর সেফ,” “প্রেয়িং ফর ইউ,” “আর ইউ ওকে?” – এমন অজস্র মন্তব্য ভিড় জমিয়েছে। কেউ কেউ লিখেছেন, “আশা করি আপনি এই ফ্লাইটে ছিলেন না।” এই মন্তব্যগুলোই বলে দিচ্ছে, এক সামাজিক মাধ্যমে কীভাবে ব্যক্তিগত জীবনের মুহূর্তগুলো ট্র্যাজেডির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হতে পারে।

বিমানবন্দর থেকে টেকঅফের পর AI-171 বিমানটি মাত্র ৬২৫ ফুট উচ্চতায় উঠেছিল। এর পরেই হঠাৎ করে সেটি দ্রুত গতিতে নিচে নামতে শুরু করে এবং মুহূর্তের মধ্যে বিধ্বস্ত হয়। এই বিমানে গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিও ছিলেন বলে জানা গেছে। পাইলটরা জরুরি অবস্থায় ‘মে-ডে কল’ পাঠাতে সক্ষম হলেও, এরপর বিমানের সঙ্গে এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (ATC)-এর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি। ‘মে-ডে কল’ হল চূড়ান্ত বিপদের সঙ্কেত, যা ইঙ্গিত দেয় যে, বিমানটি এক মহাবিপদের মুখোমুখি। মনে করা হচ্ছে, এই ‘মে-ডে কল’ করার পরপরই বিমানটি দুর্ঘটনার শিকার হয়।

বিমানটি ভেঙে পড়ার পর এক বিরাট বিস্ফোরণ ঘটে, যার ফলে সামনের একটি বিল্ডিং সম্পূর্ণ ঝলসে যায়। বিমানের একটি বিশাল অংশ দেয়াল ফুঁড়ে বিজে মেডিক্যাল কলেজের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট হোস্টেলের ছাদে ঢুকে পড়ে। প্রাথমিক খবর অনুযায়ী, এই দুর্ঘটনায় একাধিক ইন্টার্নের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। দুর্ঘটনার ব্যাপকতা এতটাই ছিল যে, ঘন কালো ধোঁয়া বহু দূর থেকে দেখা যাচ্ছিল।

এই দুর্ঘটনা আহমেদাবাদের জন্য এক ভয়াবহ পুনরাবৃত্তি। প্রায় চার দশক আগে, ১৯৮৮ সালের ১৯শে অক্টোবর, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল বিমানবন্দর আরেকটি ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার সাক্ষী হয়েছিল। সেবার ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বোয়িং সিরিজের বিমান অবতরণের সময় দুর্ঘটনাগ্রস্ত হয়, যার ফলে ১৩৫ জন বিমানযাত্রীর মধ্যে ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ২০২৫ সালের এই দুর্ঘটনা যেন ১৯৮৮ সালের সেই বিভীষিকাকে ফিরিয়ে আনল, একই বোয়িং সিরিজের বিমান, একই বিমানবন্দর, আর একই রকম মর্মান্তিক প্রাণহানির আশঙ্কা।

দুর্ঘটনাস্থলে একযোগে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে NSG, NDRF, এবং BSF। DGCA এই দুর্ঘটনা নিয়ে একটি বিবৃতি দিয়েছে, যেখানে জানানো হয়েছে যে টেকঅফের পরেই বিমানের পিছনের অংশে আগুন লাগে। এরপরই বোয়িং AI-171 জনবসতি এলাকায় ভেঙে পড়ে। এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে দুর্ঘটনার আসল কারণ জানা যায় এবং ভবিষ্যতে এমন ট্র্যাজেডি এড়ানো যায়। দীপক পাঠকের শেষ ফেসবুক পোস্টটি এখন লাখো মানুষের কাছে এক নীরব আর্তনাদ, যা এই দুর্ঘটনার হৃদয়বিদারক দিকটি আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।