খোঁজ মিলল ২০০ বছরের পুরনো কন্ডোমের, যা চোখে দেখতে মানুষের ভিড়! কি দিয়ে তৈরি এটি?

প্রায় ২০০ বছর আগের কন্ডোম কেমন ছিল? সেই কৌতূহল মেটাতে এবং ইতিহাসের এক দুর্লভ অংশকে চাক্ষুষ করার সুযোগ পেলেন সাধারণ মানুষ। নেদারল্যান্ডসের আমস্টারডামের রিয়াকস মিউজিয়ামে (Rijksmuseum) সম্প্রতি একটি ঐতিহাসিক কন্ডোম প্রদর্শিত হয়েছে, যা দেখতে মানুষের ঢল নেমেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কন্ডোমটি ফ্রান্সের একটি গণিকালয় থেকে পাওয়া গিয়েছিল। পরবর্তীতে এটি একটি নিলামে ওঠে এবং সেখান থেকে অবশেষে এই ঐতিহাসিক কন্ডোমটি ডাচ মিউজিয়ামের সংগ্রহে আসে।
কন্ডোমটি কিন্তু আধুনিক কন্ডোমের মতো রাবার বা ল্যাটেক্স দিয়ে তৈরি নয়। বিশেষজ্ঞরা পরীক্ষা করে জানিয়েছেন যে, এটি একটি প্রাণীর অ্যাপেন্ডিক্সের অংশ দিয়ে তৈরি, নির্দিষ্টভাবে ভেড়ার অ্যাপেন্ডিক্স। এর ওপর একটি ছবিও রয়েছে, যা তৎকালীন সমাজের রুচি অনুযায়ী ‘উত্তেজক’ বলে বিবেচিত।
কন্ডোমটি আসলে ব্যবহার হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে অবশ্য সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। তবে এটি যে ২০০ বছর আগে ফ্রান্সের একটি গণিকালয় থেকেই পাওয়া গিয়েছে, তা অনেকটাই পরিষ্কার। কারণ, সেই সময়ে সাধারণত কন্ডোম গণিকালয়গুলির কাউন্টারে বিক্রি হত, যেখান থেকে মানুষ তা সংগ্রহ করতে পারতেন। কন্ডোমের এমন বহুল ব্যবহার তখন ছিল না।
এই প্রদর্শিত কন্ডোমটি রীতিমতো মানুষের নজর কেড়েছে। অনেকেই সেটি দেখতে জাদুঘরে ভিড় জমাচ্ছেন। এটিই ওই জাদুঘরে প্রদর্শিত প্রথম কোনো ঐতিহাসিক কন্ডোম। এটি কেবল একটি কন্ডোম নয়, বরং একটি নির্দিষ্ট সময়ের সামাজিক রীতিনীতি এবং জীবনযাত্রার ধারকও বটে।
প্রসঙ্গত, সেই সময় প্রাণীর ক্ষুদ্রান্ত্র বা বৃহদান্ত্র বা শরীরের অন্য কোনো অংশকে ব্যবহার করে কন্ডোম তৈরি হত। যা এখনকার কন্ডোমের মতো অতটাও সুরক্ষিত ছিল না। তবে তার ব্যবহার যে ছিল, এবং তা মূলত গণিকালয়েই হত, তা এই আবিষ্কারের মাধ্যমে আরও একবার প্রমাণিত হলো।