শুভেন্দুকে মহেশতলা যাওয়ার অনুমতি দিল না পুলিশ, জেনেনিন প্রশাসনের যুক্তি কী?

মহেশতলায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হিংসার ঘটনায় পরিস্থিতি এখনো থমথমে। এই পরিস্থিতিতে বিজেপির সিনিয়র নেতা এবং বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে বৃহস্পতিবার হিংসাকবলিত এলাকায় যাওয়ার অনুমতি দেয়নি পুলিশ। কারণ হিসেবে পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এলাকায় এখনো ১৪৪ ধারা (আগে ১৬৩ ধারা বলা হয়েছিল, তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী এটিই সঠিক ধারা) জারি রয়েছে, তাই আপাতত কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ জানিয়েছে, ১৬ জুনের পর শুভেন্দু অধিকারী ওই এলাকায় যেতে পারবেন।

ডায়মন্ডহারবার জেলা পুলিশের সুপার রাহুল গোস্বামী বৃহস্পতিবার এক সাংবাদিক বৈঠকে জানান, মহেশতলার একটি শিব মন্দিরের সামনে দোকান নির্মাণ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা ছিল। এই বিরোধিতার অংশ হিসেবে স্থানীয়রা একটি ছোট তুলসী মঞ্চ তৈরি করেন। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে এই অশান্তি শুরু হয়, যখন মুসলিম সম্প্রদায়ের একটি দল তুলসী মঞ্চ তৈরির প্রতিবাদে ডেপুটেশন দিতে আসে। এর পরেই পরিস্থিতি সহিংস হয়ে ওঠে এবং শিব মন্দির ও তুলসী মঞ্চে ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে।

পুলিশ জানিয়েছে, হিংসার ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ২৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তিনটি এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তদন্ত চলমান থাকায় গ্রেপ্তার ও এফআইআর-এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বর্তমানে এলাকায় ১০টি পিকেট বসানো হয়েছে এবং রবীন্দ্রনগর থানা এলাকায় কারফিউ জারি রয়েছে। পরিস্থিতি আপাতত শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করেছে পুলিশ।

বুধবারের হিংসা চলাকালীন কয়েকজন পুলিশকর্মীও আহত হয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে পুলিশ পরিস্থিতি সামলাতে কিছুটা ব্যর্থ হয়, পরে আরও বাহিনী এনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ডায়মন্ডহারবারের এসপি রাহুল গোস্বামী একপ্রকার নিজেদের ব্যর্থতা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পুলিশের ব্যর্থতা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে তিনি এও বলেন, “পুলিশ আক্রান্ত হতেই পারে, কারণ চাকরি এরকমই।”

গোস্বামী আরও স্পষ্ট করেছেন, “পুলিশ বাড়াবাড়ি করেনি, যেটুকু প্রয়োজন সেটুকুই করা হয়েছে। আরও গ্রেপ্তার বাড়বে। পুলিশ সময় মতোই অ্যাকশন নিয়েছে। কোনও ধর্মান্ধতা বরদাস্ত করা হবে না। দল, ধর্ম, পরিচয় নির্বিশেষে কাউকে রেয়াত করা হবে না।”

বজবজে বোমা তৈরির মশলা উদ্ধার ও রাজনৈতিক যোগসূত্র
এদিকে, বুধবার রাতেই বজবজে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর বোমা তৈরির মশলা-সহ ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে তিনটি মোটরবাইকও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ খতিয়ে দেখছে, সকালের ঘটনার বদলা হিসেবে ব্যবহারের জন্য বোমা তৈরির উদ্দেশ্যেই এই মশলা নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল কি না।

পুলিশের আরও দাবি, ধৃতদের মধ্যে একজনের নাম নবীনচন্দ্র রায়, যিনি একজন সক্রিয় আরএসএস ও বিজেপি কর্মী। রামবমীর সময় অশান্তির ঘটনাতেও তার নাম জড়িয়েছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই তথ্য মহেশতলার ঘটনায় রাজনৈতিক যোগের সম্ভাবনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

মহেশতলার এই ঘটনা পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির উপর নতুন করে প্রশ্ন তৈরি করেছে। স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে এনে দোষীদের বিরুদ্ধে কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।