“৩ শহরে ১৯ প্লট, একাধিক ফ্ল্যাট”-সরকারি ইঞ্জিনিয়ারের সম্পত্তি দেখে চক্ষু চড়কগাছ সকলের

সামান্য এক রাজ্য সরকারি কর্মচারী, কিন্তু ছেলের ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এ থাইল্যান্ডে খরচ করেছেন কোটি কোটি টাকা! এই চোখ ধাঁধানো বিলাসবহুল আয়োজনই তেলঙ্গানার সেচ দফতরের উচ্চ পদস্থ ইঞ্জিনিয়ার নুনে শ্রীধরকে এনে দিল দুর্নীতি দমন শাখার নজরে। তার বিরুদ্ধে জমা পড়া ভুরি ভুরি অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়েই পুলিশ যেন কেঁচো খুঁড়তে কেউটে পেয়েছে। আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ তো নয়ই, বরং তিনি যে ‘কুবেরের ধনের’ মালিক, তা জেনে চোখ কপালে উঠেছে তদন্তকারীদের। সম্প্রতি নুনে শ্রীধরকে গ্রেপ্তার করেছে দুর্নীতি দমন শাখা।
সূত্রের খবর, দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা তেলঙ্গানার এই ইঞ্জিনিয়ারের বাড়িতে হানা দিয়ে তার অগুন্তি সম্পত্তির হদিশ পেয়েছেন। এই সম্পদের তালিকা দেখলে যে কেউ তাকে একজন সরকারি চাকুরে নয়, বরং কোনো ধনী ব্যবসায়ী মনে করতে বাধ্য হবেন।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, শ্রীধর একটি ভিলা, তিনটি বাড়ি, ১৯টি আবাসিক প্লট, কমপক্ষে চারটি ফ্ল্যাট এবং একাধিক হোটেলে শেয়ার-সহ অগুন্তি স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির মালিক। তার সম্পত্তির কিছু উল্লেখযোগ্য বিবরণ হলো:
- হায়দরাবাদের শাইকপেটে স্কাই হাই নামে একটি বিলাসবহুল আবাসিক কমপ্লেক্সে ৪,৫০০ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট।
- করিমনগরে কমপক্ষে তিনটি ফ্ল্যাট।
- হায়দ্রাবাদের কাছে তেলাপুরে একটি ভিলা।
- ওয়ারাঙ্গল, করিমনগর এবং হায়দ্রাবাদে কমপক্ষে তিনটি বাড়ি।
- তিনটি পৃথক শহরে ১৯টি প্রধান আবাসিক প্লট।
- ১৬ একর কৃষি জমি।
- করিমনগরে একাধিক হোটেলের শেয়ার, যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা।
এছাড়াও শ্রীধরের নগদ টাকা, বিপুল গয়না এবং ব্যাংক আমানতের হিসাব এখনও শেষ করতে পারেননি আধিকারিকরা।
দুর্নীতির উৎস: কালেশ্বরম লিফট সেচ প্রকল্প?
প্রাথমিক অভিযোগ, সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি ও ঘুষের মাধ্যমেই এই বিপুল সম্পত্তি বানিয়েছেন নুনে শ্রীধর। তিনি কালেশ্বরম লিফট সেচ প্রকল্পের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বিশ্বের বৃহত্তম এই বহু-পর্যায়ের লিফট সেচ প্রকল্পটিকে ঘিরে সাম্প্রতিক অতীতে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনে এই প্রকল্পকে ঘিরে দুর্নীতির অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দিয়েছিল।
দুর্নীতি দমন ব্যুরোর তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, শ্রীধরের বিরুদ্ধে একটি আয় বহির্ভূত সম্পদ মামলা দায়ের করা হয়েছে। তার সম্ভাব্য বেনামি হোল্ডিং এবং সেচ চুক্তিতে দুর্নীতির সঙ্গে সম্পর্কিত আর্থিক নথি, সম্পত্তির কাগজপত্র এবং চাকরিতে থাকাকালীন তার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের লেনদেনের রেকর্ডও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই ঘটনা তেলঙ্গানার সরকারি মহলে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি করেছে এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।